বাংলাদেশ কখনো শ্রীলঙ্কার মতো হবে না: ওবায়দুল কাদের

ঢাকা: বাংলাদেশ কখনও শ্রীলঙ্কার মতো হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শনিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের অর্ন্তগত ইউনিটগুলোর নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হবে বলছেন তারা হয় না জেনে বলছেন, না হয় উদ্দেশ্যমুলকভাবে অপপ্রচার করছেন। আমাদের ক্যাপিটাল এ্যাকাউন্ট উন্মুক্ত নয়, শ্রীলঙ্কার মতো কেউ ইচ্ছা করলে বিদেশে ডলার পাঠাতে পারবে না। শিক্ষা, চিকিৎসা যে কোনো কাজে বিদেশে টাকা পাঠাতে হলে একাউন্ট ওপেন করে তার পাঠাতে হবে। অনেকে মেগা প্রকল্পের কথা বলেন, পদ্মাসেতু বিদেশি ঋণ নির্ভর নয়। আমাদের টাকায় শেখ হাসিনা পদ্মাসেতু করছেন, বিদেশি ঋণ নেই। কোনো বিদেশি ঋণ নিয়ে এতো বড় মেগা প্রকল্প হয় না। বঙ্গবন্ধুর কন্যা সারা বিশ্বকে দেখিয়েছেন আমরা পারি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পদ্মসেতু নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। শ্রীলঙ্কার বেশির ভাগ ঋণ অল্প সময়ে, কঠিন শর্তে, অধিকতর সুদের হারে পরিশোধ করতে হচ্ছে। আমাদের অধিকাংশ ঋণ দীর্ঘ মেয়াদে পরিশোধ করতে হচ্ছে। আজকে পদ্মাসেতু, কর্ণফুলি টার্নেল, মেট্রোরেলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের পর এখন তারা লেগেছে বাংলাদেশ নাকি শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে। করোনার সংকট কাটিয়ে আজ তৃণমূল পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি ভারসাম্য পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশে তেমন কোনো সংকট হয়নি। তাই আমি অপপ্রচারকারিদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, অপপ্রচার করে লাভ নেই। বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ কখনও শ্রীলঙ্কা হবে না।

সেতুমন্ত্রী বলেন, পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলি নদীতে বঙ্গবন্ধু টানেলের কাজ প্রায় শেষ। এগুলো নিয়ে অনেক অপপ্রচার করা হয়েছে কিন্তু অপপ্রচার করে অগ্রযাত্রা থামানো যায়নি। এখন অপ্রচার করতে গিয়ে অনেকে শ্রীলঙ্কার পথে হাঁটছে। বলছে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো হবে।

এসময় ওবায়দুল কাদের বলেন, ইউনিট সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চার প্রমাণ দিয়েছে। এটা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার কারণেই সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের হাজার হাজার কর্মীর উপস্থিতি দেখে আমরা আশাবাদী। নেত্রীকেও বলবো, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে আপনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জেগে আছে। আওয়ামী লীগ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারবো। আওয়ামী লীগই বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাবে। অপপ্রচার, চরিত্রহনন করে লাভ নেই। দেশে বিদেশে প্রোপাগান্ডা করে লাভ নেই। আওয়ামী লীগের শেকড় বাংলাদেশের যত গভীরে, সেটা উপড়ে ফেলা যাবে না।

সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যদি পরাজিত হয় তাহলে সার্বভৌমত্ব পরাভূত হবে। বিএনপি বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করছে। ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে। সব ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।’

সভা শেষে চলতি বছরের নভেম্বরেই ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *