দেশের কিংবদন্তি অভিনেত্রী আনোয়ারা মাস খানেক ধরে অসুস্থ। যদিও আগের চেয়ে এখনকার অবস্থা কিছুটা ভালো। তবে চোখে এখনো ভালোভাবে দেখতে পাচ্ছেন না। একটু ঘোলা দেখছেন। হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। ধরে ধরে হাঁটাতে হয়। কথাবার্তাও বলেন। কিন্তু কিছু কিছু জিনিস মনে করতে পারেন না।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাঁর মেয়ে মুক্তি। তিনি জানালেন, ডিসেম্বরে তাঁর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই মা আনোয়ারা বেগম ভীষণ রকমভাবে ভেঙে পড়েন।
মুক্তি বলেন, ‘ডিসেম্বরে বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই আম্মার মন ভালো ছিল না। এ বছরের জানুয়ারিতে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে মিশা সওদাগর ও জায়েদ খানের প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠানে আম্মা উপস্থিত হয়ে কিছু কথা বলেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে মিশা-জায়েদ প্যানেলের পক্ষে কথা বলার কারণে ফেসবুক ও ইউটিউবে তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের আজেবাজে মন্তব্য করেন অনেকে। মালেক আফসারীর মতো পরিচালকও ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেন। এসব আম্মাকে ভীষণভাবে আহত করে।’
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে কাউকে চিনতে না পারার কারণে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা পর্যন্ত নিতে সশরীর যেতে পারেননি আনোয়ারা বেগম। মায়ের হয়ে অভিনয়শিল্পী মেয়ে রুমানা ইসলাম মুক্তি তা গ্রহণ করতে যান। মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে বলে ধারণা করছেন মেয়ে মুক্তি।
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের সময় একটি প্যানেলের হয়ে কথা বলার কারণে ফেসবুক ও ইউটিউবে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ অভিনয়শিল্পী আনোয়ারাকে নিয়ে অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের অনেকের নেতিবাচক মন্তব্যে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে জানালেন মেয়ে মুক্তি।
মুক্তি বললেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন কেন্দ্র করে যে ঘটনার মুখোমুখি হন, তা আম্মাকে আহত করেছে। কয়েক দিন তো রাতে ঘুমাতেও পারতেন না। একদিন রাতে ঘুম থেকে উঠে কাঁদতে কাঁদতে মা বলছিলেন, “চলচ্চিত্রে অভিনয়ের কারণে সবাই যেখানে আমাকে মা, মা বলে ডাকে, আনুদিও বলে ডাকে, সেই আমাকে শিল্পী সমিতির নির্বাচনের কারণে এভাবে অপমানিত হব ভাবিনি! এ কেমন সময়ে চলে এলাম।”
এসবে আম্মা ট্রমাটাইজড হয়ে পড়েন। আম্মার মানসিক অবস্থা দেখে একটা সময় তাঁর মন ভালো করতে আমরা সবাই মিলে কক্সবাজার নিয়ে যাই। চার দিন সেখানে থাকার পর ৮ মার্চ ঢাকায় ফিরে আসি। কিন্তু আম্মা যেন কিছুতেই ওসব ভুলতে পারছিলেন না। এই কষ্টেও কি আম্মা স্ট্রোক করলেন কি না, বুঝতে পারছি না।’
আনোয়ারার চিকিৎসকের বরাতে মুক্তি বলেন, ‘বড় ধরনের স্ট্রোক করেছেন আম্মা। আম্মার শারীরিক অবস্থা ঠিক হতে দেড়-দুই মাস লাগবে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকেরা।’
