পাকিস্তানকে একটি ইসলামি রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে চেয়েছিলাম: ইমরান খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিজের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা ভোটের পদক্ষেপকে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’ বলে আবারও অভিহিত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তার সরকারের ‘স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতির’ কারণে এমনটা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নিজের দলের ভিন্নমতাবলম্বী এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সতর্ক করে ইমরান খান বলেন, দেশের ভবিষ্যত প্রজন্ম তাদের বা তাদের ‘মনিবদের’ ক্ষমা করবে না।

বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) টেলিভিশনে সম্প্রচারিত জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। ইমরান খান সরকারের ভাগ্য নির্ধারণে জাতীয় পরিষদে তার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটের দিনকে সামনে রেখে এসব কথা বললেন তিনি।

৩ এপ্রিল অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটের কথা রয়েছে। তার তিন দিন আগে বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে আবেগপ্লুত ভাষণ দেন ইমরান। বলেন, তিনি একটি ইসলামী রাষ্ট্র গঠন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ‘ষড়যন্ত্রকারী’দের কাছে পারছেন না।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর অনেকবার হুমকি চিঠি পেয়েছেন বলে ভাষণে জানান ইমরান খান। তিনি বলেন, ‘এগুলো সব বিদেশি ষড়যন্ত্র।’

বক্তব্যের এক ফাঁকে ইমরান তার পকেট থেকে এক টুকরো কাগজ বের করে জনতাকে দেখিয়ে দাবি করেন, সরকারকে পতনের জন্য একটি ‘আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র’ তৈরির প্রমাণ এটি। তবে গণমাধ্যমকে সেই নথি দেখাননি ইমরান খান।

ভাষণের শুরুতেই ইমরান বলেন, ‘আজ আমি দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বলার জন্য উপস্থিত হয়েছি। পাকিস্তান আজ এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে তার সামনে দু’টো পথ খোলা আছে। তার মধ্যে একটি পথে চললে অদূর ভবিষ্যতে পাকিস্তানকে আমরা একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে পাব, আর অপর পথটি আমাদেরকে একটি তল্পিবাহক দাস রাষ্ট্র গঠনের দিকে পরিচালিত করবে।’

ইমরান খান বলেন, পাকিস্তানকে একটি ন্যায়ভিত্তিক, আত্মমর্যাদাপূর্ণ ও আধুনিক কল্যাণমূলক ইসলামি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন থেকেই রাজনীতিতে এসেছিলাম। পাকিস্তান রাষ্ট্রের সঙ্গে আমার বয়সের পার্থক্য মাত্র ৫ বছর এবং আমার ১৪ বছরের রাজনীতির জীবনে আমি তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি— ন্যায়বিচার, মানবিকতা এবং আত্মমর্যাদা।’

কিন্তু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হওয়ার পর থেকেই তিনি বিরোধীদের সীমাহীন অসহযোগিতার শিকার হয়েছেন এবং তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ‘ষড়যন্ত্রের’ পেছনে তিনজন পাকিস্তানি রাজনীতিবিদের হাত রয়েছে বলে ভাষণে অভিযোগ তোলেন ইমরান খান।

এরা হলেন শেহবাজ শরিফ, ফজলুর রহমান ও আসিফ আলী জারদারি। এই তিন বিরোধী রাজনীতিক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চক্রান্তে সরাসরি যুক্ত বলে অভিযোগ করেন তিনি। সবচেয়ে আপত্তির বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের গোপন আঁতাত। প্রকৃতপক্ষে তারা হলো এক একজন ভাঁড় এবং ভাঁড়ের অর্থ হলো বৈধ দাস।’

সাম্প্রতিক রাশিয়া সফরকে তারা ষড়যন্ত্রের প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন বলে ভাষণে অভিযোগ করেন ইমরান খান। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ সম্পর্কে তিন রাজনীতিক ‘কান ভারী’ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ‘আমি শুধু একটি কথা বলব— দেশের জনগণ কখনও আপনাদের ক্ষমা করবে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *