সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর: রংপুরে দুদকের গণশুনানিতে ভূমি, নির্বাচন কমিশনসহ প্রায় প্রতিটি সরকারি অফিসে জনসাধারণের বিভিন্ন হয়রানি ও দুর্নীতির অনিয়মের কথা উঠে এসেছে গণশুনানিতে।
অভিযোগের নিষ্পত্তি দিন তারিখ নির্ধারণ করে দেয়ার পর দুদক কমিশনার বলেছেন, সরকারি অফিসে জন হয়রানি ও দুর্নীতি বন্ধে দুদকের আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। একজন কল কারখানা পরিদর্শক এর ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নিজের লজ্জিত হওয়ার কথাও বলেন তিনি।
রংপুর মহানগরির মোস্তাফিজার রহমান নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর এই অভিযোগ সোমবারের দুদকের গণশুনানিতে কল কারখানা পরিদর্শক তপন রায় দুর্নীতি-অনিয়মের স্বর্গরাজ্য বানিয়েছেন রংপুর বিভাগীয় কলকারখানা পরিদর্শন কার্যালয়কে।
ঘুষ গ্রহণের এই অভিযোগ দালিলিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় উপস্থিত দুদক কমিশনার একজন সরকারি কর্মকর্তার কান্ডে নিজেই লজ্জিত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে বলেন।
তপন রায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে তিন দিনের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে গণশুনানিতে। শুধু কলকারখানা পরিদর্শন কার্যালয় নয়, ভূমি, নির্বাচন অফিসসহ প্রতিটি সরকারি অফিস এই অনিয়ম দুর্নীতি আর হয়রানির চিত্র ফুটে উঠল গণশুনানিতে।
দুদকের আইন অমান্য করে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গণশুনানিতে অংশ না নেয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন দুদক কমিশনার। বলেন, গণশুনানির অর্থ হল সরকারি অফিসগুলোতে দুর্নীতি অনিয়ম ও ঘুষ বন্ধে সিগন্যাল দেওয়া বলেছেন, জহুরুল হক কমিশনার তদন্ত দুর্নীতি দমন কমিশন।
তিনি বলেন, দুদক কমিশনার বলেছেন তারা খুব সহজে দুদক আইন প্রয়োগ করতে চান না। কারণ দুদকের আইন খুবই কড়া দুদুক যদি কাউকে ধরে তাহলে আর তাকে ছাড়ে না।
গণশুনানিতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না ওঠায় তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।
সোমবার দিনভর শুনানিতে টাউন হলে জেলার ২০টিরও বেশি সরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানীসহ দূর্নীতির অভিযোগের উপর শুনানী করেন দুদক কমিশনার (তদন্ত) জহুরুল হক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দুদকের মহাপরিচালক একেএম সোহেল, রংপুর পুলিশ কমিশনার মোহাঃ আবদুল আলীম মাহমুদ, দুদক রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক আব্দুল করিম, জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন।
গণশুনানী অনুষ্ঠানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, রংপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সেবা গ্রহীতাকে হয়রানি করা, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়, জন্মনিবন্ধনের জন্য অতিরিক্ত টাকা আদায়, রংপুর সদর ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে নামজারীতে অতিরিক্ত টাকা আদায়, বিআরটিএ অফিসের বিরুদ্ধে লাইসেন্স প্রদানে হয়রানীসহ নানা অভিযোগে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের অভিযোগকারীর মুখোমুখি করা হয়।
এ সময় অভিযোগকারী হয়রানী-দূর্নীতির কথা তুলে ধরেন ও সরকারি দপ্তরগুলো অভিযোগ খন্ডন করেন। দুদক কমিশনার প্রত্যেক সরকাররি দপ্তরকে অভিযোগকারীর অভিযোগ নিস্পত্তিতে নির্ধারিত সময় বেঁধে দেন এবং হয়রানীকারি-দূর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার ঘোষনা দেন।
