নিজের টাকায় কার্যক্রম চালাচ্ছি, সমিতির এক টাকাও খরচ হয়নি: নিপুণ

শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে স্থিতি অবস্থা জারি করেছে আদালত। এই অবস্থায়ও চিত্রনায়িকা নিপুণ শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসে সমিতির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জায়েদ খান। তার দাবি, শিল্পী সমিতির চেয়ারে বসে নিপুণ মিটিং করছে ও সকল কার্যক্রম চালাচ্ছেন। যা আদালত অবমাননা।

বিষয়টি নিয়ে রোববার কথা হয় নিপুণের সঙ্গে। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি আদালত অবমাননার মতো কিছুই করিনি। আমি সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নয়, এক সাধারণ শিল্পী ও সমিতির সদস্য হিসেব সমিতির কার্যক্রম চালাচ্ছি।’

নিপুণের ভাষ্য, শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের পদ এখনো অমিমাংসিত। কিন্তু সমিতির কার্যক্রম তো থেমে থাকবে না। প্রতিমাসে সমিতির স্টাফদের বেতন পরিশোধ, সমিতির পক্ষ থেকে নানা আয়োজন শিল্পীদের সাহায্য সহযোগিতা সবই তো চলছে। এগুলো আমার নিজের টাকায় নিজে উদ্যোগি হয়ে করছি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে অতীতের সবচেয়ে বড় আয়োজন করলাম এবার। এখানেও শিল্পী সমিতির বিশাল অবদান রাখছে।

নিপুণ বলেন, ‘যে বলছেন আদালত অবমাননা করছি। তাকে এফডিসিতে এসে এ কাজগুলো করতে বলেন। তিনি তো একবারও এফডিসিতে এলেন না। আদালতে রায়ের পর তাকে আর এফডিসিতে দেখাই পাওয়া যায় না। সমিতির খবর তো তিনি একবারও রাখেননি। প্রয়াত শিল্পীদের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে নানা আয়োজন রাখা হচ্ছে। আজও শিল্পী সমিতির পক্ষে দুইশ’ মানুষের আয়োজন। এখানে কিন্তু সমিতির এক টাকাও খরচ হয়নি। তাহলে সমিতি চলছে কিভাবে? তাকে একবার জিজ্ঞাসা করুন।

এর আগে শনিবার এফডিসির শিল্পী সমিতির অফিসের মিটিংয়েরে বেস কয়েকটি ছবি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেন শিল্পী সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক অভিনেতা সাইমন সাদিক। ছবিগুলোর সঙ্গে তিনি ক্যাপশন জুড়ে দিয়েছিলেন, ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যকরী পরিষদের মিটিং। ’

বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়- এই প্রতিক্রিয়ার জবাবেই নিপুণ বলছেন, শিল্পী সমিতির সাধারণ সদস্য হিসেবেই মিটিংয়ে আমার থাকা। এটা নিয়ে আদালত অবমাননার অজুহাত তোলার কিছু নেই।

সংগঠন সচল রাখতে শিল্পী হিসেবে নিজের ভূমিকা তুলে ধরে নিপুণ বলেন, ‘সামনে আসছে রোজা। বেশ কয়েকজনের নিয়মিত খাবার আয়োজন করতে হবে, কর্মচারীরা আছে। শিল্পীরা রয়েছে যাদের দেখতে হবে। এভাবে সমিতি থামিয়ে রাখলে হবে?’

উল্লেখ্য, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের পদে গত ২ মার্চ জায়েদ খানের পক্ষে রায় দেন হাইকোর্ট। এরপর শপথ নিয়ে চেয়ারেও বসেছিলেন তিনি। তবে গত ৬ মার্চ শুনানি শেষে জায়েদ খানকে সমিতির সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেন চেম্বার আদালত। আগামী চার সপ্তাহ এ পদে স্থিতাবস্থা থাকবে বলেও আদেশ দেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের একক বেঞ্চ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *