ভালোবাসা নিয়ে নিজের মধ্যে ভয় তৈরি হয়েছে: জয়া আহসান

এপার হোক কিংবা ওপার, দুই বাংলাতেই সমান জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। প্রতিযোগিতার দৌড়ে থাকা নয়, সারাবছর মন দিয়ে শিল্পচর্চা করাতেই বিশ্বাসী জয়া। যার স্বীকৃতিও পাচ্ছেন নিয়মিত।

তৃতীয়বারের মতো ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম সম্মানজনক পুরস্কার ফিল্মফেয়ার অর্জন করলেন তিনি। পুরস্কার প্রাপ্তিসহ বাংলাদেশ ও কলকাতা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয়ে তিনি কথা বললেন এক জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে।

ফিল্মফেয়ারে হ্যাট্টিক করলেন। কেমন লাগছে?
আমি তো ভেবেছিলাম দু-বার পুরস্কারটি পেয়েছি এবার হয়তো পাবো না। সেই ভাবনায় এমনি গিয়েছিলাম অংশ নিতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই সম্মানটি আবারও পেলাম। ফিল্মফেয়ার এডিটর ফোন করে আমার খুব প্রশংসা করেছেন। সিনেমাটি ৩টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেল। আমি সবচেয়ে খুশি হয়েছি ক্যামেরা ক্রু সামিউল পুরস্কার পাওয়ায়। আমার মনে হলো এবারের আয়োজনে পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে শৈল্পিক সিনেমাগুলোকে প্রধান্য দিয়েছেন আয়োজকরা।

এতে কলকাতার সহকর্মীদের মাঝে আপনার প্রতি ঈর্ষা বেড়ে যাবে মনে করছেন না?
দেখুন, যে কেউ একটি ভালো কাজ করলে আমারও মনে হয়, ইশ! আমি যদি ওর মতো অভিনয় করতে পারতাম! সেই অর্থে ঈর্ষার বিষয়টি টের পাই না। কলকাতার সহকর্মীরা আমাকে ঈর্ষা করে না, ভালোবাসেন। সাধারণ দর্শকরা আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসে এটা টের পাই। যা আমার কাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘদিন টলিউডে কাজ করছেন। এই ইন্ডাস্ট্রিকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
এটাকে আমি টলিউড না কলকাতা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বলবো। একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন, কলকাতাই কিন্তু সংস্কৃতিক চর্চার তীর্থস্থান। অন্য ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে মৌলবাদী চিন্তা-চেতনা থেকে শুরু করে অনেক কিছুই দেখতে পাবেন, যা কলকাতাতে নেই। কলকাতায় কাজের ক্ষেত্রে এটাই আনন্দ। এখানে কাজের স্বাধীনতা আছে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সিনেমার কতটা উন্নতি হয়েছে মনে করছেন?
আমাদের দেশের চলচ্চিত্রের ভালো একটা সময় যাচ্ছে। এখন অনেক মেধাবীরা কাজ করছেন। আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশ ও কলকাতার স্বাধীনধারার চলচ্চিত্রগুলোই বেশি ভালো হচ্ছে।

বিয়ে, সংসার, সন্তান বা জুনিয়র জয়াকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন কি-না?
হ্যাঁ, অবশ্যই দেখি, কেন দেখবো না! আসলে তার আগে তো দেখতে হবে আমি কীভাবে চলছি বা চলতে চাচ্ছি। তাছাড়া আবার কাউকে ভালোবাসা নিয়েও নিজের মাঝে এক ধরনের ভয় তৈরি হয়েছে। তাই আপাতত আমার প্রেম-ভালোবাসা, দাম্পত্য কাজের সঙ্গে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *