নায়িকা সুবাহর আরো এক স্বামীর সন্ধান!

গত বছরের শেষের দিকে মডেল ও অভিনেত্রী শাহ হুমায়রা সুবাহকে বিয়ে করেছিলেন দেশের সুপরিচিত গায়ক ইলিয়াস হোসাইন। তাদের দাম্পত্য জীবনের এক মাস অতিক্রম না হতেই বেঁজে ওঠে ভাঙনের সুর। এরপর ইলিয়াসের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আনেন সুবাহ। এমনকি এই গায়কের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও করেন সুবাহ। সুবাহর বিরুদ্ধেও পাল্টা মামলা করলেন ইলিয়াস। তাদের দাম্পত্য কলহ এখন চরম আকার ধারণ করেছে।

এখানেই শেষ না, ইলিয়াস-সুবাহকে নিয়ে এখন নতুন খবর বেরিয়েছে। সূত্রে জানা গেছে অভিনেত্রী শাহ হুমায়রা সুবাহর আরও এক স্বামীর কথা। শাহ হুমায়রা সুবাহের নিজের দায়ের করা গাইবান্ধা থানায় এক এজাহারপত্রে তিনি মো. ইয়াসির আরাফাত নামে এক ব্যক্তিকে নিজের স্বামী হিসেবে উল্লেখ করেন।

সুবাহার করা এজাহার পত্রটি হুবহু তুলে ধরা হচ্ছে:

‘বিনীত নিবেদন এই যে, আমি মোছাঃ হুমায়রা হোসেন সুবহা (২০), স্বামী-মোঃ ইয়াসির আরাফাত, সাং পাড়া, থানা ও গো-গাইবান্ধা, এই মর্মে আসামী ১। মোঃ মোমান সরকার (২৭), পিতা-মোঃ সামজ্জামান সরকার, কোমরনই মিয়াপাড়া (মিয়াপাড়া বাজারের বাম পার্শ্বে), ২। মোঃ মাহফুজ (২৬), পিতা (খন্দকার মোড়), ৩। মোঃ আল ইমরান (২২), পিতা- মো: আকরুজ্জামান, সাং- তোমরাই (কদমেরতল), এজাহার করিতেছি যে, আসামীগন পরস্পর ঘনিষ্ট বন্ধু। আমি গত ১ মাস পূর্ব হইতে ২ আসামীর মোছার পাখি বিউটি পার্লার, সালিমার সুপার মার্কেট, ৩য় তলা, গাইবাছায় পার্লারের কাজ শেখার জন্য ভর্তি হই। পার্লারে কাজ করার সুবাদে ২নং আসামীর সহিত আমার পরিচয় হয়। ৩নং আসামীদ্বয় ২নং আসামীর ঘনিষ্ট বন্ধু হওয়ায় আমার সহিত পরিচয় হয়।

১নং আসামী ২নং আসামীর কাছ থেকে আমার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে এবং বিভিন্ন ও সময়ে আমাকে ফোন করিয়া কথাবর্তা বলিত। এভাবে চলিয়া আসিতে থাকাকালে গত ইং-২৫/০৮/১৭ তারিখ অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় ১নং আসামী মোবাইল নং-০১৭১৯-২৬৪১০২, ০৩-২০১৭ ৭-৮৮৪৮২২, ০১৯১২-৪১১১২২ হইতে আমার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর-০১৭৯৮-২১৯১০৭ ১৭২৩-১৮০৭০৫ এ ফোন করিয়া আমাকে বলে যে, “আজ শুক্রবার পার্লার বন্ধ থাকবে, তুমি পাখি আপার বাসায় আসো, পাখি আপা বাসায় কাজ শেখাবো। আমি ১নং আসামীর কথামত সরল বিশ্বাসে বাসা হইতে অটোরিক্সাযোগে: আসামীর বাড়ী যাই। আমি ইং-২৫/০৮/১৭ তারিখ সকাল অনুমান ১১.০০ ঘটিকার সময় ২নং আসামীর বাড়ি পৌঁছাই। আমি ২নং আসামীয় বাসায় যাওয়ার পর আসামীগনকে ২নং আসামীর শয়ন ঘরে দেখিতে পাই এবং ২/৩ জন আসামীকে বাড়ীর বাহির আঙ্গিনায় দেখিতে পাই।

আমি আসামীগনকে ২নং আসামীর স্ত্রী পাখি আপা কোথায় গেছে জানিতে চাহিলে ১নং আসামী আমাকে জানায় যে, সে বাহিরে গেছে তোমাকে ঘরে বসতে বলিয়াছে। আমি ২নং আসামী শয়ন ঘরে ঢোকার আগেই ২ নং আসামীর ঘর হইতে বাহির হইয়া বাহির আঙ্গিনায় অজ্ঞাতনামা আসামীগনের সহিত মিলিত হয় এবং আমি সরল বিশ্বাসে ২নং আসামীর শয়নঘরে প্রবেশ করি…এজাহারপত্র দায়ের করিতে বিলম্ব হইল।

অতএব, মহোদয় আমার উপরোক্ত বিষয় তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করিতে আপনার মনে হয়।’

অন্যদিকে,গায়ক ইলিয়াস বলেন, ২০১৯ সালে সুবহার সঙ্গে আমার পরিচয় হয় একটি রেস্টুরেন্টে বসে। আমাকে পরিচয় দিয়েছিল সে চলচ্চিত্র নায়িকা হিসেবে। পরবর্তীতে সে আমার ব্যক্তিগত ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে এবং বিভিন্ন সময় আমাকে কল করতে থাকে। এক পর্যায়ে সে আমাকে বলে ক্রিকেটার নাসিরকে সে ভুলতে পারছে না। আমি যদি তাকে সময় দিতে পারতাম সে নাসিরকে ভুলতে পারতো। এ ধরনের কথা বলে আমার কাছে কান্নাকাটি করতো নানা সময়। এক পর্যায়ে সে আমাকে বিয়ে করতে চায় ও আমার ফোনে বিয়ের বার্তা পাঠাতে থাকে। নাসিরের বিয়ের ভিডিও যখন প্রকাশ হয় তখন সে আমার উপর বেশি আবেগী হয়ে পড়ে। আমি বিষয়টি বুঝতে পেরে যোগাযোগ বন্ধ রাখি।

এক পর্যায়ে আমার বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারি যে, সুবহা ঘুমের ওষুধ খেয়েছে, সেই সঙ্গে নিজের হাত কেটেছে। আমি তখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলার চেষ্টা করি তার সঙ্গে। এরপর একদিন তার বাসায় ডেকে নিয়ে আমাকে ড্রিংসের মধ্যে চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে আমাকে ব্লাকমেইল করার মতো প্রমাণ সংগ্রহ করে রাখে এবং তা দেখিয়ে আমাকে বিয়ে করতে বাধ্য করে। বিয়ের কাবিন করে সাত লাখ ৭৭ হাজার ৭৭৭ টাকা। বিয়ের পর থেকে সুবাহের টাকার প্রতি চাহিদা বাড়তে থাকে। এভাবে চলতে থাকলে আমি এক পর্যায়ে তার সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দিতে থাকি। আমি গণমাধ্যমে এর বেশি আর বলতে পারবো না। যা বলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য প্রমাণসহ জমা দিয়েছি। আপনারা খুব তাড়াতাড়ি সব কিছু জানতে পারবেন।

তিনি বলেন, দেখুন, আমি প্রথমেই বলেছি আমাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়নি। সুবাহ আমার নামে যেসব তথ্য প্রকাশ করছে তা সবই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বিয়ের দিন সুবাহের মাসহ কয়েকজন থাকার কথা থাকলেও ঐদিন উপস্থিত ছিল ৪০ থেকে ৪৫ জন। উপস্থিত সবাইকে তার পরিবারের সদস্য বলে আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। আর ডির্ভোস বা তার সঙ্গে না থাকার ব্যাপারটা নিয়ে আমি আইনি সহযোগিতা চেয়েছি। আইন কি সিদ্ধান্ত দেবে সেই অপেক্ষায়।

এই বিষয়ে সুবহা বলেন, এসব মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমার কিছুই করতে পারবে না কেউ। এসব করে আমাকে শুধু ভাইরাল করতে পারবে। আমার কিছুই হবে না, ইনশাআল্লাহ। পরিমনিরও কেউ কিছু করতে পারেনি, নিজে ঠিক তো দুনিয়া ঠিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *