মহানবী (সা.)-কে অবমাননা করায় ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে তলব করছে পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- পাকিস্তানে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে তলব করছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মহানবী সা. কে নিয়ে কটাক্ষ করে অবিবেচকের মতো মন্তব্য করে সম্প্রতি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ায় দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে পাকিস্তান। এক প্রতিবেদনে এখবর দিয়েছে আনাদোলুে এজেন্সি।

 

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি সোমবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাণ্ডজ্ঞানহীন মন্তব্যে বিশ্বে বিভিন্ন দেশের মতো পাকিস্তানেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 

এতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি আরও উল্লেখ করেন, আগামী বছরের ১৫ মার্চে অনুষ্ঠিতব্য ওআইসির বার্ষিক সভায় ইসলাম ফোবিয়া নিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব করেছে পাকিস্তান।

 

বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হানার অধিকার কারও নেই। তিনি জাতিসংঘকে এ ধরনের ঘৃণাবিদ্বেষ ছড়ানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান।

 

উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর প্যারিসের উপকণ্ঠে দেশটির এক স্কুল শিক্ষকের শিরশ্ছেদ করে ১৮ বছর বয়সী এক কিশোর। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বিতর্কিত কার্টুন শিক্ষার্থীদের প্রদর্শনের কারণে ক্ষুব্ধ ওই কিশোর স্কুল শিক্ষককে হত্যা করেন।

 

পরে ফ্রান্সের সরকার ওই স্কুল শিক্ষককে দেশটির সর্বোচ্চ মরণোত্তর পদকে ভূষিত এবং বিভিন্ন ভবনের গায়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বিতর্কিত সেই কার্টুনের প্রদর্শন শুরু করে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই কার্টুনের প্রদর্শনের ব্যবস্থার নির্দেশ দেন।

 

ফরাসি প্রেসিডেন্টর এই অবস্থানের প্রতিবাদে আরব উপসাগরীয় অঞ্চলসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফ্রান্সের পণ্য বর্জনের হিড়িক পড়ে গেছে। অনেক খ্যাতনামা চেইন শপসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফরাসি পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। করোনাকালে এই বর্জনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব আঁচ করতে পেরে আরব দেশগুলোর প্রতি পণ্য বর্জন বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছে ফ্রান্স।

 

এদিকে, এক বিবৃতিতে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, মহানবী (সা.) এর ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশের পর সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে ফ্রান্সের পণ্য, বিশেষ করে খাদ্যপণ্য বয়কটের ডাক দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফ্রান্সের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাকও পড়েছে বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশে।

 

‘বয়কটের এসব আহ্বান ভিত্তিহীন এবং অবিলম্বে এগুলো বন্ধ হওয়া উচিৎ। সেই সঙ্গে সব ধরনের আক্রমণাত্মক মনোভাব, যা একটি উগ্র সংখ্যালঘু সম্প্রদায় উস্কে দিচ্ছে, সেগুলো বন্ধ করতে হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *