মুখ খুলেছেন শ্রাবন্তী, তার গাড়িচালক গ্রেফতার

বেজির গলায় শিকল পরিয়ে ছবি দিয়ে বিপাকেই পড়েছেন টালিউড অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। তাকে ভারতের বন্যপ্রাণীবিরোধী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে তলব করা হয়। আর এবার গ্রেফতার করা হয়েছে তার গাড়িচালককে।

বুধবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় গাড়িচালক ভরত হাতিকে নেপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় সংস্থা ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল। আজ বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) কোর্টে তোলা হবে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গত ১৫ জানুয়ারি অভিনেত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায় একটি বেজির গলায় শিকল বাঁধা অবস্থায় রয়েছে। ছবির ক্যাপশনে শ্রাবন্তী লিখেছিলেন, ‘আচমকা ছোট্ট বন্ধুটির সঙ্গে দেখা হল।’

শ্রাবন্তীর পোস্ট করা এ ছবি নিয়ে সেই সময়েই আপত্তি তুলেছিলেন নেটিজেনদের অনেকে। এভাবে কোনো নিরীহ প্রাণীকে বেঁধে রাখা একদম উচিত নয়। কমেন্ট বক্সে এমন কথাই জানানো হয়েছিল।

এ বিষয়টা ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল সেলের নজরে আসে এবং অভিনেত্রীকে কিছুদিন আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়। পরে বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন ১৯৭২-এর ৯, ১১, ৩৯, ৪৮এ, ৪৯, ৪৯এ-র ভিত্তিতে অভিযোগ দায়ের করা হয় টলিউড অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে। একবার নয়, দুবার করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই বেজির মালিক কে, কোথা থেকে তাকে নিয়ে আসা হয় এ সব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল সূত্রের খবর, ওই বেজিটির মালিকানা ছিল শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের গাড়িচালকের কাছে। তিনি যেভাবে বেজিটিকে গলায় শিকল দিয়ে রাখেন এবং তারপর সেই প্রাণীটিকে শুটিং স্পটে নিয়ে আসা হয়, তা বন্যপ্রাণী আইনকে লঙ্ঘন করে। সেই কারণেই অভিনেত্রীর গাড়িচালককে গ্রেফতার করা হয়।

শ্রাবন্তীর মাধ্যমেই ভরতের খোঁজ পান তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এরপর মঙ্গল ও বুধবার লাগাতার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অফিসারদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ভেঙে পড়েন ভরত। জানান, নেপালগঞ্জের বাসিন্দা তিনি। নিজের বাড়িতেই বেজিটি বহুদিন ধরে পোষ্য হিসেবে রেখেছিলেন। শুটিংয়ের জন্য তাকে সেটে নিয়ে এসেছিলেন। ভরতের কথা শুনে তার নেপালগঞ্জের বাড়িতেও হানা দেন অফিসাররা। সেখান থেকে বেজিটিকে উদ্ধার করা হয় এবং তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

এর আগে সমন পেয়ে গত সোমবার (৭ মার্চ) প্রথমে অরণ্য ভবনে যান শ্রাবন্তী। তারপর ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল সেলে হাজির হন। গত মঙ্গলবার (৮ মার্চ) দ্বিতীয় দফার জিজ্ঞাসাবাদের পর যখন বেরিয়ে যান অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, সেই পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। অভিনেত্রী তখন বলেন, যে ছবিটা আমি বেজির সঙ্গে তুলেছিলাম সেটা নিয়ে তদন্ত চলছে। যার বেজি ছিল তিনিও এসেছেন। শুটিং করছিলাম, কারও একটা বেজি ছিল। আমি ধরে আদর করছিলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *