নজর২৪, ঢাকা- বাসায় অভিযান শেষে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম এবং তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদকে একবছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অবৈধভাবে মাদকদ্রব্য ও ওয়াকিটকি রাখার দায়ে তাদের দু’জনকে এই সাজা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে তাদের গ্রেফতারও করা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত দু’জনের মধ্যে ইরফান নিজেও জনপ্রতিনিধি। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলমের ভ্রাম্যমাণ আদালত এ কারাদণ্ড দেন।
অভিযান শেষে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন র্যাবের মুখপাত্র এবং আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ। এর আগে, সোমবার দুপুর থেকে ইরফান সেলিমের চকবাজারের ওই বাড়িতে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান শুরু করে।
এসময় ইরফান সেলিমের বাসায় অবৈধভাবে মজুদ রাখা বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করে র্যাব। এছাড়া তার বেডরুম থেকে বিটিআরসির অনুমোদনবিহীন ৩৭টি ওয়াকিটকি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও একটি পিস্তলও উদ্ধার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর ধানমন্ডি কলাবাগান ক্রসিংয়ের কাছে হাজী সেলিমের গাড়ি থেকে নেমে নৌ বাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এর পরদিন সোমবার ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা করেছেন ওয়াসিফ। মামলায় হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম, প্রোটকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু, মোহাম্মদ জাহিদ ও মিজানুর রহমানের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরো তিনজনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ইরফানের গাড়ি ওয়াসিমকে ধাক্কা মারার পর নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিম সড়কের পাশে মোটরসাইকেলটি থামান এবং গাড়ির সামনে দাঁড়ান। নিজের পরিচয় দেন। তখন গাড়ি থেকে আসামিরা একসঙ্গে বলতে থাকেন, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবাহিনী বের করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বের করতেছি। তোকে এখনই মেরে ফেলব।’
এরপর বের হয়ে ওয়াসিমকে কিলঘুষি মারেন এবং তার স্ত্রীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। তারা মারধর করে ওয়াসিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যান। তার স্ত্রী, স্থানীয় জনতা এবং পাশে ডিউটিরত ধানমন্ডির ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে উদ্ধার করে আনোয়ার খান মডেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
