বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের পক্ষে দেওয়া হাইকোর্টের রায় আগামী চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। আর এরপরই আজ রবিবার সন্ধ্যায় এফডিসিতে এসে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসলেন নিপুণ।
সে সময় সাংবাদিকদের এই অভিনেত্রী বলেন, ‘চেয়ারটা নিয়ে কেনো এত যুদ্ধ? আমি কিন্তু প্রথম থেকেই বলেছি, আমি এই চেয়ারটা নিয়ে যুদ্ধ করছি না। আমার যুদ্ধটা আসলে একজন অপশিল্পীর বিরুদ্ধে, অপশক্তির বিরুদ্ধে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে। আমাকে বলা হয়েছিল, কোর্টের বারান্দায় বারান্দায় না ঘুরে আমি যেন অভিনয় করি। আমি এখনও কাজ করে যাচ্ছি। আমি খুব ভালো দুটি ব্যবসা চালাই। যখন আপনি আমাকে কোর্টে নিতে বাধ্য করেছেন, তখন আমি তো কোর্ট যাবোই। আমি গিয়েছি, এবং আদালত থেকে ন্যায় বিচার পেয়েছি।’
নিজের আদালতের শরণ হওয়ার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী বলেন, ‘শিল্পীদের জন্যই’ তিনি আদালতে গেছেন।
“যখন আপনি আমাকে কোর্টে নিতে বাধ্য করেছেন, তখন আমি তো যাবই। আমি গিয়েছি এবং ন্যায় বিচার পেয়েছি।”
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয় গত ২৮ জানুয়ারি, পরদিন ঘোষিত ফলে সভাপতি পদে ইলিয়াস কাঞ্চনকে এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত ফলে দেখা যায়, জায়েদ খান হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ১৩ ভোটে হারিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন প্যানেলের নিপুণকে।
নির্বাচনের সময়ই টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ করেছিলেন নিপুণ। তাতে সাড়া না পেয়ে তিনি আপিল করেন। নির্বাচনী আপিল বোর্ড জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করলে শপথ নিয়ে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসেন নিপুণ। কিন্তু জায়েদ খানের আবেদনে নির্বাচনী আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেয় হাই কোর্ট।
হাই কোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন নিপুণ। তখন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ওই পদে ‘স্থিতাবস্থা’ জারির আদেশ দেন। সেই সঙ্গে জায়েদ খানের রিট আবেদনে যে রুল জারি হয়েছিল, হাই কোর্টকে তা নিষ্পত্তি করতে বলে। সেই রুলের উপর শুনানি শেষে হাই কোর্ট গত বুধবার নির্বাচনী আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে রায় দেয়।
সেই রায়ের বিরুদ্ধে নিপুণ আপিলের আবেদন করেন। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি রোববার হাই কোর্টের রায় স্থগিতের পাশাপাশি ৪ এপ্রিল শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়েছেন নিপুণের আবেদন।
