হাইকোর্টের আদেশে সাধারণ সম্পাদক পদ বুঝে পেয়েছেন জায়েদ খান। জটিলতা কাটিয়ে দায়িত্ব পেয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত চলচ্চিত্র অভিনয় শিল্পীদের এই নেতা। শুক্রবার বিকেলে শপথ নিয়ে যেন পুরোপুরি স্বস্তিতে!
শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এফডিসিতে জায়েদ খানকে শপথ পাঠ করান শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন। শুধু জায়েদ খান নয়, তার প্যানেল থেকে নির্বাচিত সদস্য অরুণা বিশ্বাস, সুচরিতা, সহ-সভাপতি ডিপজল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক জয় চৌধুরীও শপথ নিয়েছেন।
শপথ পাঠের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জায়েদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আদালতে দৌড়াতে দৌড়াতে আমি ক্লান্ত। অবশেষে দায়িত্ব শপথ নিয়ে স্বস্তি পাচ্ছি। এখন কাজ করতে চাই।’
ভোটে জেতা জায়েদ খান চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে আইনী লড়াইয়ে হাইকোর্টের রায় পেয়েছেন বুধবার। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনী আপিল বোর্ড কর্তৃক নিপুণ আক্তারকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা ও জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিলের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এ সংক্রান্ত রুলের শুনানি শেষে বুধবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। এই রায়ের ফলে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদ ভোটে জেতা জায়েদ খানেরই রইলো।
এমন রায়ে উচ্ছ্বসিত জায়েদ খান সেসময় জানিয়েছিলেন, ‘সত্যের জয় হয়েছে। আমি শিল্পীদের ভোটে জয়ী সাধারণ সম্পাদক। তবু কিছু মানুষ ষড়যন্ত্র করে আমাকে চেয়ারে বসতে দেয়নি। এই রায়ে আমি সবার কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আইনজীবী, মিডিয়া, ভক্ত সবার কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি।’
উল্লেখ্য, শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে অনেকদিন ধরেই ঝামেলা চলছিল। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে পদ ফিরে পেয়েছেন জায়েদ খান। গত ২ মার্চ জায়েদের পক্ষে রায় দেন আদালত।
গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিত্রি নির্বাচন। এতে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হন জায়েদ খান ও নিপুণ। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে জয়লাভ করেন জায়েদ। এরপর পুনর্গণনাতেও তিনি জয় পান।
পরবর্তীতে জায়েদ খানের বিরুদ্ধে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন নিপুণ। সেই প্রেক্ষিতে পদটি নিয়ে শুরু হয় বিতর্কের ঝড়। বিষয়টি সমাধানের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় নির্বাচনের আপিল বোর্ডকে। তারা তদন্ত শেষে জায়েদ খানের প্রার্থীতা বাতিল করে এবং নিপুণকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী ঘোষণা করে।
এরপর জায়েদ খান আদালতের রিট করেন। সেই রিটের বিপরীতে আবার নিপুণ আপিল করেন। সবমিলিয়ে পদটি নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তৃতীয়বারের মতো জায়েদই হলেন শিল্পীদের নেতা।
