আন্তর্জাতিক ডেস্ক- পূর্ব ইউক্রেনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির পুতিন ‘সামরিক অভিযান’ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মাথায় আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়ে গেছে তেলের দাম। গত সাত বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্যারল প্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
এর আগে গত সোমবার ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দুটি প্রদেশকে রাশিয়া রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর মঙ্গলবার প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৯৯ দশমিক ৩৮ মার্কিন ডলারে উঠেছিল। গত সাত বছরের মধ্যে এটি ব্যারেল প্রতি সর্বোচ্চ দাম ছিল।
বিশ্বে প্রতিদিন ব্যবহৃত মোট জ্বালানি তেলের প্রতি ১০ ব্যারেলের মধ্যে একটি আসে রাশিয়া থেকে। ইউক্রেন-রাশিয়া সংকটের কারণে প্রতি ব্যারেল জ্বালিন তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল ফাইডেলিটি ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সংস্থা।
বিবিসি জানিয়েছে, ইউক্রেনে যুদ্ধের সংবাদের কারণে এশিয়ার শেয়ার বাজারে ২ থেকে ৩ শতাংশ কম লেনদেন হয়েছে। উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে শেয়ার বাজারে দরপতন শুরু হয়েছে।
পূর্ব ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দুটি অঞ্চলকে ‘স্বাধীন’ রাষ্ট্র ঘোষণার পর সেখানে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপরই মস্কোর ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আসতে শুরু করে পশ্চিমাদের পক্ষ থেকে।
এর আগে অস্ট্রেলিয়া রাশিয়ার ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, তার দেশও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে যাচ্ছে। ব্যাংক, পরিবহন, গ্যাস, তেল ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ের ওপর থাকবে এ নিষেধাজ্ঞা।
জাপান সরকারও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে রাশিয়ার ওপর। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা ঘোষণা দিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তিনি বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হেনেছে। টোকিও পরিস্থিতির ওপর বিবেচনা করে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন কিশিদা।
রাশিয়ার ওপর স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সবার আগে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে।
রাশিয়ার তিনটি ব্যাংক ও তিন ধনকুবেরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।
এরপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, ইউক্রেনে যদি আরও হামলা চালায় তবে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে।
