জনগণ আমাকে এমপি হিসেবে দেখতে চায়: ডি এ তায়েব

ছোট ও বড় পর্দার একজন সুপরিচিত মুখ অভিনেতা ডি এ তায়েব। অসংখ্য টিভি নাটক, টেলিফিল্ম এবং চলচ্চিত্রে তাকে অভিনয় করতে দেখা গেছে। এর পাশাপাশি ডি এ তায়েবের আরও একটি বড় পরিচয় আছে, যা অনেকেরই হয়তো অজানা। তিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের ইন্সপেক্টর তিনি।

দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এই পেশায় রয়েছেন ডি এ তায়েব। কিন্তু এত ভালো একটি চাকরি অসময়ে ছেড়ে দিতে চলেছেন তিনি। ইতোমধ্যে রিটায়ারমেন্ট পিটিশন দাখিল করেছেন অভিনেতা। গণমাধ্যমকে এই তথ্য তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু হঠাৎ কী এমন হলো যে তিনি এত বড় একটি পদক্ষেপ নিলেন? কীসের অভিমান তার?

এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ডি এ তায়েব।

প্রশ্ন: অভিমান করে অবসরে যাচ্ছেন?
ডি এ তায়েব: একদমই না। অভিমানের কোনো প্রশ্নই আসে না। আমি স্বেচ্ছায় অবসরে যাচ্ছি।

প্রশ্ন: অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কেন?
ডি এ তায়েব: আমি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করি। দায়িত্ববান মানুষ হিসেবে কাজে ছাড় দেয়া একদমই পছন্দ না আমার। দীর্ঘদিনের চাকরি জীবনে অভিনয়ের জন্য যথেষ্ট সাপোর্ট দিয়েছে আমার ডিপার্টমেন্ট। এদিকে অভিনয়ে ব্যস্ততা বাড়ছে আমার। আবার একই সঙ্গে চাকরিতেও গুরুত্ব বেড়েছে। একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দুটি কাজ সঠিকভাবে সামাল দেয়া তো আর সম্ভব না। আর একজন দায়িত্ববান মানুষ হিসেবে এক জায়গায় ঘাটতি রেখে অন্য জায়গায় কাজ করা আমার কাছে পছন্দের না। তাই স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া।

প্রশ্ন: চাকরিরত অবস্থায় অভিনয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল?
ডি এ তায়েব: বড় পর্দার কাজ মানেই বড় টিম। এ জন্য প্রায়ই রাজধানী ঢাকার বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। কখনো কখনো দীর্ঘদিন থাকতে হয়। কিন্তু পুলিশে চাকরি করে তো দীর্ঘদিন বাইরে থাকা সম্ভব না। আর আমি যখন অভিনয় করি তখন আমার কাছে মনে হতো কোনো স্যার আমাকে খুঁজছেন কিনা, আমাকে কোনো স্যার ফোন করছেন কিনা…। নিজের দায়বদ্ধতা থেকে এই চিন্তাগুলো থেকে যায়।

প্রশ্ন: ২৫ বছর চাকরি করলেন, আরও তো সুযোগ ছিল…
ডি এ তায়েব: সুযোগ ছিল এটা ঠিক। কোনো অফিসারই তো আজীবন চাকরি করে না। একটা সময় তো আমাকে অবসরে আসতেই হতো। অবসরে আসলেও একজন গর্বিত অফিসার হিসেবে ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক বজায় থাকবে। সেখানে সিনিয়র-জুনিয়র সবাই আমাকে ভালোবাসেন। আমিও তাদের ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি।

প্রশ্ন: তারকা-চাকরিজীবী হিসেবে নয়, সাধারণ মানুষ হিসেবে চাকরি ছাড়া চ্যালেঞ্জের হলো না?
ডি এ তায়েব: আমার কাছে চ্যালেঞ্জ মনে হয় না। আমি অবসরে চলে আসছি। বেতন-রেশন সবই পাব। নিরপেক্ষতা বা বিশাল একটা পরিধিতে কাজ করতে চাচ্ছি আমি। এদিকে আমার এলাকাবাসীর দাবি, আমি যেন জাতীয় পর্যায়ে তাদের জন্য কাজ করি। আমাকে তারা সংসদ নির্বাচন করার জন্য অনুরোধ করছে। তারা আমাকে এমপি হিসেবে দেখতে চাচ্ছে। আমার নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইল-৭ আসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *