বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন সারাদেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। এর অন্যতম একটি কারণ একুশে পদকজয়ী অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন সভাপতি হয়েছেন।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে নিপুণ ও জায়েদ খানের প্রতিযোগিতা। এ পদে জটিলতা গিয়ে পৌঁছেছে আদালতে৷ বর্তমানে আদালত পদটিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত আসবে কে হবেন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক।
এদিকে বৃহস্পতিবার (১০ ফ্রেব্রুয়ারি) আদালতের আদেশ অমান্য করেই সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন নিপুণ, এমন গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তিনি এই পদে নিজের নামে নেমপ্লেটও বানিয়েছেন বলে গুঞ্জন।
সবমিলিয়ে নাটকীয়তার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এবারের নির্বাচন। এমন বাস্তবতায় মুখ খুললেন চিত্রনায়ক রুবেল।
তিনি মনে করেন, এমনিতে চলচ্চিত্রশিল্পে দুর্দিন ছিল। শুরু হয়েছে করোনা। নেই প্রযোজক। সব মিলিয়ে এখন এফডিসি মৃতপ্রায়, এর মধ্যে এবার যোগ হয়েছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে কাদা–ছোড়াছুড়ি, যা শিল্পীদের বিব্রত করছে।
এসব ঘটনা এই অ্যাকশন হিরোকে আহত করেছে। অভিমানে তিনি বললেন, ‘চেষ্টা করব, আর কখনো এফডিসিতে পা না রাখতে।’
রুবেল বলেন, ‘আমি চাই আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন। সবাই ভালো কিছু করুক। সংগঠন এগিয়ে যাক। আমি তাদের সবার স্বার্থে সব সময় আছি। এটাই আমার জন্য সত্য। কিন্তু এখন চূড়ান্তভাবে কাদা–ছোড়াছুড়ি হচ্ছে। এসব আরও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। এসব অবস্থায় আমি চেষ্টা করব এফডিসিতে আর পা না দিতে।’ এই সময় তিনি বিগত নির্বাচন প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘অনেকবার নির্বাচন করে আমার ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে। সেসব নির্বাচনে যা দেখেছি, সেই তুলনায় এবারের নির্বাচনের মতো এমন নোংরামি কোনো দিনও দেখিনি।’
‘আপনারাই তো এখন সিনিয়র অভিনেতা, আপনি যদি এভাবে অভিমান করেন…’ কথা শেষ হতে না হতে রুবেল বলেন, ‘আমি সব সময় ফেয়ার থাকার চেষ্টা করেছি। আমি কোনো দিন নোংরা পলিটিকসের মধ্যে যাইনি। জীবনে কোনো দিন কারও সঙ্গে বেয়াদবি করেছি, খারাপ ব্যবহার করেছি, সেই রেকর্ড আমার নেই। কিন্তু এখন নিজেদের মধ্যে একে অন্যকে নিয়ে এটা-সেটা বলা হচ্ছে, এসব আনফেয়ারের মধ্যে আমি নেই।’
তিন দশকের বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনয় করছেন রুবেল। একটানা ১২ বছর ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। দায়িত্ব পালন করেছেন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে।
এই অভিনেতা বলেন, ‘যখন ক্রীড়া ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক ছিলাম, তখন আমি নির্বাচন না করলে ওই পোস্টে কেউ নির্বাচন করতেন না। সমিতির সাবেক সভাপতি হিসেবে আহমেদ শরীফ ভাইয়ের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছি। মান্না সাহেবসহ অনেকের সঙ্গে সমিতিতে কাজ করেছি। এবারও সবই ঠিক ছিল কিন্তু কোথায় যেন নোংরামি চরম আকার ধারণ করেছে। সারা দেশের মানুষ এখন আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করে। আমি হাসাহাসির পাত্র হতে চাই না।’
