ইভ্যালি চালাতে চান রাসেলের শ্বশুর-শাশুড়ি

আদালতের নির্দেশে গঠিত বোর্ডের সঙ্গে এক হয়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি পরিচালনা করতে চান এটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেলের শ্বশুর রফিকুল আলম তালুকদার ও শাশুড়ি ফরিদা তালুকদার।

বিচারপতি মো. খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চে বুধবার হাজির হয়ে রাসেলের শ্বশুর-শাশুড়ি এ কথা জানান।

তারা আদালতকে বলেন, ‘কারাবন্দি ইভ্যালির এমডি রাসেলের কাছ থেকে শেয়ার নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইভ্যালি পরিচালনা করতে চাই।’

এ জন্য আদালতের অনুমতি চান তারা। তাদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহসান সারোয়ার চৌধুরীও যুক্ত হন।

তাদের বক্তব্য শুনে এ বিষয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি এফিডেভিড (হলফনামা) আকারে জানাতে নির্দেশ দেন বিচারক।

এ সময় ইভ্যালির লিগ্যাল টিমের কো-অর্ডিনেটর দাবি করে ইউটিউবে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও আপলোড করা নিঝুম মজুমদারকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত।

ইভ্যালিতে পণ্য অর্ডার দিয়ে অর্থ পরিশোধের পর পণ্য ও অর্থ ফেরত না পেয়ে মো. ফরহাদ হোসেন নামের এক গ্রাহক গত সেপ্টেম্বরে হাইকোর্টে আবেদন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৮ অক্টোবর আদালত ইভ্যালির ব্যবস্থাপনায় পাঁচ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেন। এরপর ইভ্যালির সাতটি গাড়ি নিলামের প্রক্রিয়া পরিচালনাসহ কয়েকটি বিষয় নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ একটি আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রাসেল ও তাঁর স্ত্রী, তাঁদের সন্তান, তাঁদের মা-বাবা, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সদস্য এবং ইভ্যালির ভবনমালিকের ব্যাংক (ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক) হিসাবে কেন জব্দ করা হবে না, এ বিষয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলেন।

এরপর রাসেলের শ্বশুর রফিকুল আলম তালুকদার, শাশুড়ি ফরিদা তালুকদার এবং ইভ্যালির সাবেক নির্বাহী পরিচালক এহসান সারওয়ার চৌধুরী বুধবার আদালতে উপস্থিত হন। তাঁদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী গোলাম সারওয়ার মজুমদার। ইভ্যালির পরিচালনা পর্ষদের পক্ষে আইনজীবী মোর্শেদ আহমেদ খান শুনানিতে ছিলেন। গ্রাহকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মাহসিব হোসেন।

পরে আইনজীবী মোর্শেদ আহমেদ খান বলেন, রাসেল ও শামীমা নাসরিনের ইভ্যালিতে থাকা শেয়ার কিনে নেওয়ার অভিপ্রায় মৌখিকভাবে আদালতে ব্যক্ত করেন রাসেলের শ্বশুর, শাশুড়ি ও সাবেক নির্বাহী পরিচালক এহসান সারওয়ার চৌধুরী। কোম্পানিটি পরিচালনায় ইভ্যালির অডিটরকে (নিরীক্ষক) সহযোগিতা করবেন বলেন তাঁরা। আদালত তাঁদের পরিকল্পনা ও অভিপ্রায় লিখিতভাবে দিতে বলেন। তখন তাঁরা কিছুদিন সময় চাইলে আদালত তাঁদের পরিকল্পনা ও অভিপ্রায় হলফনামা আকারে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দাখিল করতে বলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *