অবশেষে মুখ খুললেন ইলিয়াস কাঞ্চন

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনকে ঘিরে নাটকীয়তা যেন থামছেই না। গত কয়েক দিন ধরে ক্ষমতার লড়াইয়ে লিপ্ত চিত্রনায়ক জায়েদ খান ও চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তার।

পদ দখলে জায়েদ ইতোমধ্যে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন, অন্যদিকে নিপুণ আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টে। চলছে আইনি লড়াই।

এছাড়া গত কয়েক দিন ধরে একে অন্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য তো অব্যাহত আছেই।

এই যখন অবস্থা তখন নিজ প্যানেলের নিপুণ আক্তার ও বিপক্ষ প্যানেলের জায়েদ খানকে নিয়ে ‍মুখ খুললেন ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ খ্যাত নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তবে তিনি কারও পক্ষে কথা বলেননি। শুধুমাত্র নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।

মঙ্গলবার ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, ‘কিছুক্ষণ আগে একটা গান শুনছিলাম। গানের মূল বক্তব্য, ‘ও মানুষ, কথা কম কবা।’ আমি সেটাই মেনে চলছি। আমার বলার কিছু নেই। যে পদটি নিয়ে জল ঘোলা হচ্ছে, সেটি তো আমার না। আমি তাদের ব্যাপারে নাক গলাতে চাই না। তারা আমার কথা শুনবেও না। ব্যাপারটা এখন উচ্চ আদালতে গড়িয়েছে। আদালতই রায় দেবেন।’

ইলিয়াস কাঞ্চন আরও বলেন, ‘আজকে একটা শুনছি, কাল হয়তো আরেকটা শুনব। চোখের সামনে দেখব কী হচ্ছে! আগে থেকে বলে কেন দোষী হতে যাব! জায়েদ সাধারণ সম্পাদক হলেও আমার লাভ নেই, নিপুণ হলেও ক্ষতি নেই। আমি কেন, আরও সিনিয়র কেউ এসে কিছু বললেও তারা হয়তো শুনবে না। যদি শুনতো, তাহলে জল এত দূর গড়াত না।’

উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি এফডিসিতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের এই নির্বাচন ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। ভোটের আগেই দুপক্ষের কাদা ছোড়াছুড়ি হয়। ভোটগ্রহণের পরদিন ভোরে ফল ঘোষণা করে সমিতির নির্বাচন কমিশন।

২০২২-২৪ কার্যকরী পরিষদের এ নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হন ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মিশা সওদাগরকে হারান ৪৩ ভোটে।

সাধারণ সম্পাদক পদে দুটি প্যানেল থেকে লড়াই করেন জায়েদ খান ও নিপুণ। জায়েদ খান ১৭৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আর নিপুণের পক্ষে ভোট পড়ে ১৬৩টি।

ভোটে সভাপতি পদ নিয়ে বিতর্ক না থাকলেও জায়েদ খানের সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। ভোটের সময় নিপুণ তার বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ আনেন। পরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে একই অভিযোগ করেন তিনি।

ওই সংবাদ সম্মেলনে ভোট বাতিল দাবি করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা শহিদুল হারুনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনেন তিনি। তার কাছে পীরজাদা হারুন ভোটের দিন চুমু চেয়েছিলেন বলে দাবি করেন নিপুণ। অবশ্য হারুন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

পরে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত জায়েদ খান ও কার্যকরী পরিষদ সদস্য পদে নির্বাচিত চুন্নুর প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করা করেন পরাজিত প্রার্থী নিপুণ।

এরপর প্রার্থিতা বাতিলের অভিযোগের দিকনির্দেশনা চেয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠান চলচ্চিত্র সমিতির নির্বাচনের আপিল বোর্ডের প্রধান সোহানুর রহমান সোহান।

আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলে মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এফডিসিতে আসেন নিপুণ, আপিল বোর্ডের সদস্য সোহানুর রহমান সোহানসহ অনেকে।

এফডিসির বৈঠকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় জায়েদের প্রার্থিতা বাতিল করে তার পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিপুণকে জয়ী ঘোষণার সিদ্ধান্ত আসে। সন্ধ্যায় বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনে জানান সোহানুর রহমান সোহান।

এর পরদিন রোববার শপথ গ্রহণ করেন ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণসহ নির্বাচিত কয়েকজন। ইলিয়াস কাঞ্চনকে শপথ পড়ান নির্বাচনে সভাপতি পদে হেরে যাওয়া মিশা সওদাগর।

এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান জায়েদ খান। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার হাইকোর্টে রিট করেন তিনি।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট জায়েদের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাকে পদে বহাল থেকে কাজ চালিয়ে যেতে বলেন। একইসঙ্গে নিপুণের সাধারণ সম্পাদক পদ স্থগিত করেন।

হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন নিপুণ আক্তার। সেটির শুনানি বুধবার অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *