একের পর এক অভিযোগ। সব অভিযোগ মুখ বুঝে সহ্য করেছেন। সামাজিকভাবে তাকে নানাভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন ঘিরে সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান শুরু থেকেই চুপ ছিলেন। অপেক্ষায় ছিলেন হয়তো শিল্পীদের রায়ের। অবশেষে প্রতিদ্বন্দ্বী নিপুণকে ১৩ ভোটে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন জায়েদ খান।
এদিকে কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেলের কেউই নিপুণের এই পরাজয় মেনে নিতে চাইছেন না। গত রোববার সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে পুনরায় নির্বাচনের দাবি করেন নিপুণ। তবে জায়েদ জানিয়েছেন শিল্পী সমিতির সংবিধানে এমন কোনো নিয়ম নেই। ওই সংবাদ সম্মেলনে নিপুণ জায়েদ খানের কিছু স্ক্রিনশট দেখান। যা কিনা জায়েদ ভুয়া বলে মন্তব্য করেছেন।
পাল্টা এইভাবে ভুয়া স্ক্রিনশট দিয়ে যারা দেশের মানুষের কাছে তাকে ভিলেন সাজানোর চক্রান্ত করছেন তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেবেন বলে জানালেন জায়েদ। তিনি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সোমবার সন্ধ্যায় জায়েদ বলেন, ‘নিপুণকে ১ নম্বর আসামি করব।’
এদিকে জায়েদের এমন বক্তব্যের পর মঙ্গলবার (০১ ফেব্রুয়ারি) নিপুণের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘জায়েদ খান যদি আমাদের নামে মামলা করে, তাহলে চলচ্চিত্রের স্বার্থে প্রয়োজনে আমি ওর বিরুদ্ধে ১০০ মামলা করব।
নিপুণ বলেন, ‘আগে করতে দিন। তাহলে আপনি লিখে দিন, আমিও ১০০টি মামলা করব জায়েদ খানের নামে।’ তিনি এ–ও বলেন, ‘আমি মামলা করার মেয়ে নই। এখন জায়েদ খান যদি আমার নামে মামলা করে, তাহলে চলচ্চিত্রের স্বার্থে ওর নামে ১০০ মামলাই করব এবং সেটি করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
আপনি কোন প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁর নামে ১০০ মামলা করবেন? এমন প্রশ্নে নিপুণ বলেন, ‘অনেক কিছুই প্রমাণ আছে। কিন্তু আমি এগুলো নিয়ে মামলা করতে চাইনি। যেহেতু সে করতে চাইছে, আমিও করব।’
জায়েদ খানের বিরুদ্ধে কবে মামলা করবেন জানতে চাইলে নিপুণ বলেন, ‘আগে জায়েদ করে নিক, ও স্টেপটা বাড়াক, তারপর আমি করব।’
তবে চলচ্চিত্রবোদ্ধারা বলছেন, এসব মামলা-হামলা চলচ্চিত্রের জন্য অশনি সংকেত। আগের দিনের মতো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সেই জৌলুস নেই। ভালো মানের সিনেমারও অভাব। তবে পুরোনো যে ঐতিহ্য রয়েছে তা যেন আমরা ভুলে না যাই। ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে কাজ করাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত। এখনই লোক হাসানো বন্ধ না করলে আগামীতে আরও খারাপ দিন দেখতে হবে।
