নড়াইলের রাকিব সৌদি আরবে ছিলেন দীর্ঘদিন। সম্প্রতি ভিসাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে তাঁকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি সরকার। দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে গত বৃহস্পতিবার ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিনি। পরে লাগেজ বেল্টে এসে খেয়াল করেন, তাঁর লাগেজটি সঙ্গে নেই। প্রবাসে উপার্জনের ৭ লাখ টাকার চেক, ব্যাংকের কাগজসহ প্রয়োজনীয় নানা জিনিসপত্র ছিল সেই লাগেজে। তন্নতন্ন করে খুঁজে লাগেজটি না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন রাকিব।
বিমানবন্দরে উপস্থিত অনেকে এগিয়ে এলে কেঁদে কেঁদে লাগেজ হারানোর কথা বলেন রাকিব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই কথোপকথনের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এ নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। ভাইরাল ভিডিওতে রাকিবকে বলতে শোনা যায়, ‘বিমানবন্দরের বাইরে চুরি হলে ভিন্ন কথা। লাগেজটি বিমানবন্দরের ভেতর থেকে হারিয়ে যায়। লাগেজের ভেতর ব্যাংকের সাতটি চেক ছিল, তাতে বাংলাদেশি টাকায় সাড়ে সাত লাখ টাকা হয়।’
রাকিবের সেই ভিডিও দেখে এ ঘটনায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন অনেকেই। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর রাকিবের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বসে থাকেনি বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা। তাঁদের চেষ্টায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই লাগেজ উদ্ধার করে রাকিবের হাতে তুলে দিয়েছে পিবিএন।
তবে লাগেজটি চুরি যায়নি, অন্য একজন নিজের লাগেজ রেখে ভুল করে রাকিবের লাগেজটি নিয়ে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, রাকিবের অসহায় অবস্থা দেখে এপিবিএন নানা তৎপরতা শুরু করে দেয় লাগেজ উদ্ধারে। ঘটনার সময় ও ঘটনার পরবর্তী সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শুক্রবার হারানো লাগেজটি উদ্ধার করে এপিবিএন।
শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে লাগেজটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মোহাম্মদ জিয়াউল হক জিয়া।
তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সৌদিপ্রবাসী রাকিবের লাগেজটি উদ্ধার করা হয়েছে। আসলে তার লাগেজটি চুরি হয়নি। ভুলে অন্য একজন রাকিবের লাগেজটি নিয়ে গিয়েছিলেন এবং নিজের লাগেজটি রেখে গিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দর থেকে কারও লাগেজ চুরি হওয়ার সুযোগ নেই। এখানে আমাদের এপিবিএন টিমসহ অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মীরা সার্বক্ষণিক কাজ করেন।
