নজর২৪ ডেস্ক- আপাতত পঞ্চগড় জেলা ছাড়া কোথাও তেমন শৈত্যপ্রবাহ নেই। দক্ষিণ দিক থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয়বাষ্প ও মেঘের কারণে উত্তর, উত্তর-পশ্চিম দিকের হিমালয়ান হিমেল হাওয়া গত কয়েকদিনে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। এরফলে শীতের জোর আপাতত কম। দেশের দুয়েক জায়গায় বিক্ষিপ্ত হালকা থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
তবে মেঘ-বৃষ্টির আবহ ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে। আবহাওয়ায় শীতকালের স্বাভাবিক শুষ্কতা ফিরেছে। রাত থেকে সকাল অবধি কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে মাঠ-ঘাট, গ্রাম-জনপদ, সড়ক-মহাসড়ক, শহরতলী, নদ-নদী অববাহিকা। কুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় শ্রীমঙ্গলে এক মিলিমিটার, সিলেটসহ দুয়েক জায়গায় বিক্ষিপ্ত হালকা ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই মেঘ-বৃষ্টির আবহ পুরোপুরি কেটে গেলে শীত আবারো জেঁকে বসতে পারে।
শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ ড. মো. আবদুল মান্নান জানান, সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় আবহাওয়ার কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। এরপরের ৫ দিনে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
এদিকে আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ বছর আর শৈত্যপ্রবাহ আসার আশঙ্কা নেই। তবে জানুয়ারি মাসে দেশব্যাপী শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস রয়েছে।’
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, বাংলাদেশের সাধারণ তাপমাত্রার হিসাব অনুযায়ী বড় কোন এলাকা জুড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আট থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে সেটিকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ছয় থেকে আট ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। আর তাপমাত্রা ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস সৈয়দপুরে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫ টা ১৮ মিনিটে এবং আগামীকাল ঢাকায় সূর্যোদয় হবে ভোর ৬ টা ৩৮ মিনিটে। এ ছাড়া আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।
