নজর২৪ ডেস্ক- কক্সবাজারে পর্যটককে গণধ র্ষ ণের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম আশিক ভুক্তভোগী নারীকে তার স্বামী-সন্তানকে হ ত্যার ভয় দেখিয়ে হোটেলে নিয়ে যায়। হোটেলে গিয়ে “স্বামী-স্ত্রী” পরিচয় দিতে বাধ্য করা হয় তাকে। ভুক্তভোগী নারী এ তথ্য জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) ভুক্তভোগী নারী বলেন, “আমার শিশু সন্তান ও স্বামীকে হ ত্যা করার ভয় দেখিয়ে হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে ওই যুবকের কথামতো ‘স্ত্রী’ পরিচয় দেই। এরপর কক্ষে নিয়ে আমাকে আবারও ধ র্ষ ণ করে রুমের দরজা আটকে পালিয়ে যায় সে। হোটেল থেকে বেরিয়ে প্রথমে ৯৯৯-এ ফোন করি এবং পরে র্যাবকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে আসে।”
এ বিষয়ে ঘটনাস্থল “জিয়া গেস্ট ইন” হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্কে থাকা ম্যানেজার আমির হোসেন ও তামজিদ আল হাসান বলেন, “ওইদিন রাতে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে আরিফুল ইসলাম আশিক ও এক নারী কক্ষ ভাড়া নেয়। পরে এক ঘণ্টার মধ্যে তারা চলে যায়। এতে তাদের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে কক্সবাজার জেলার ঈদগাহ থানার মাইজপাড়া গ্রাম।”
হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, “ওই রাত এক নারী ও এক যুবক স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে হোটেলর নিয়মানুযায়ী রুম ভাড়া নেয়। পরে অন্তত ৪০ মিনিট পর রুম ছেড়ে (চেক আউট) দিয়ে চলে যায়। এরপর রাত ১১টার দিকে ওই নারীকে নিয়ে র্যাবের একটি দল হোটেল আসে। র্যাব হোটেলের সিসিটিভির ফুটেজ থেকে শুরু করে যাবতীয় প্রমাণ নিয়ে যায়। হোটেল থেকে কোনো নারীকে র্যাব উদ্ধার করেনি।”
এ বিষয়ে কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাসেম শিকদার বলেন, “ঘটনাটি শুনে আমি দ্রুত জিয়া গেস্ট ইন হোটেলে যাই। যতটুকু জানি স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে এক নারী ও পুরুষ রুম ভাড়া নিয়ে পরে ছেড়ে দেয়। এমন ঘটনা কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের জন্য অশনি সংকেত।”
মঙ্গলবার রাজধানী থেকে স্বামী ও আট মাসের সন্তানকে কক্সবাজারে বেড়াতে যান ওই নারী। ওই দিন বিকেলে কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্টে এক অপরিচিত তরুণের সঙ্গে তার স্বামীর গায়ে ধাক্কা লাগলে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে সন্ধ্যার পর পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে তার আট মাসের সন্তান ও স্বামীকে সিএনজি অটোরিকশায় করে কয়েকজন তুলে নিয়ে যায়।
আরেকটি অটোরিকশায় ওই নারীকে তুলে নেয় তিন যুবক। শহরের পর্যটন গলফ মাঠের পেছনে একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে তাকে ধ র্ষ ণ করে তিনজন। পরে একটি হোটেলে নিয়ে তাকে আবার ধ র্ষ ণ করা হয়। খবর পেয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে র্যাব। এ ঘটনায় তিনজনকে শনাক্ত করতে পেরেছে র্যাব। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে হোটেলটির ম্যানেজারকে।
শনাক্তরা হলেন- কক্সবাজার শহরের মধ্যম বাহারছড়া এলাকার মৃত আব্দুল করিমের ছেলে আরিফুল ইসলাম আশিক (২৩) ও মোহাম্মদ শফিকের ছেলে ইসরাফিল হুদা জয় এবং আবুল কাসেমের ছেলে মেহেদী হাসান বাবু।
এদিকে এ ঘটনায় চারজনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনকে আসামি করে বৃহস্পতিবার রাতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারীর স্বামী। এজাহারে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন আশিক, জয়, বাবু ও ছোটন। তাদের মধ্যে ছোটন জিয়া গেস্ট ইন হোটেলের ম্যানেজার। তাকে ঘটনার পর আটক করেছে র্যাব। র্যাবের দাবি, আশিকের সঙ্গে ছোটনের আগে থেকেই সখ্য ছিল।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীরুল গিয়াস বলেন, ‘ওই নারীকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’
