নজর২৪ ডেস্ক- সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ ভোট ইস্যুতে একটি বক্তব্য ভার্চুয়াল জগতে ভাইরাল হওয়া পুলিশ কর্মকর্তাকে সিলেট বদলি করা হয়েছে।
কুমিল্লার দাউদকান্দি-চান্দিনা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল রানাকে রবিবার এক প্রজ্ঞাপনে সপ্তম এপিবিএন সিলেটের সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়।
সম্প্রতি চৌদ্দগ্রামে ইউপি নির্বাচন ইস্যুতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে জুয়েল রানা বলেন, ‘আপনি নৌকা প্রাপ্তি হয়েছেন বলেই চেয়ারম্যান হয়ে যাবেন বিষয়টি এমন না। আমি যেখানে ডিউটি করেছি নৌকা পেয়েছে ২৫১ ভোট। কিন্তু নৌকার প্রার্থী বলতে পারেননি ভোট সুষ্ঠুু হয়নি। শুধু নৌকা নিয়ে আসলেই, টাকাপয়সা থাকলেই, বড় বড় নেতার আত্মীয়স্বজন হলে নির্বাচনে জয় লাভ করা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভোটকেন্দ্র অনেকে দখল করতে আসেন, চোর ধর্মের কথা শুনে না। কুত্তার লেজ সোজা হয় না। আমাদের অস্ত্র রেডি আছে, প্রশিক্ষণ আছে, সরকার গুলি দিছে। অর্ডার আছে। আইন লঙ্ঘন হচ্ছে। আমরা কি বসে থেকে ফিডার খাব? গুলি করব, হাত-পা যদি দু-চারজনের ওড়ে যায়, আমাদের কারও কাছে জবাবদিহি করতে হবে না।’
এই পুলিশ কর্মকর্তার প্রায় ১২ মিনিটের ভিডিওতে তিনি নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য সতর্কতামূলক দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে প্রার্থী ও সাধারণ মানুষ তার বক্তব্য সমর্থন দিয়েছেন।
নির্বাচন নিয়ে এই বক্তব্য প্রদানের পর সেটির ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় ভার্চুয়াল জগতে। পক্ষে-বিপক্ষে শুরু হয় মন্তব্য। এরই মাঝে জুয়েল রানাকে বদলি করা হলো সিলেটে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পুলিশে এই প্রথম অভিন্ন মানদণ্ডে পুরস্কার প্রদান শুরু হয়েছে। সেই মানদণ্ডে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলার ৫০ জন সার্কেল অফিসারের মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার নির্বাচিত হন কুমিল্লার দাউদকান্দি সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল রানা।
এদিকে জুয়েল রানার বদলিতে দাউদকান্দি ও চান্দিনাতে সাধারণ মানুষের মাঝে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। দাউদকান্দি উপজেলার স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জুয়েল রানা স্যার একজন জনবান্ধব পুলিশ অফিসার ছিলেন।
যেকোন প্রয়োজনে স্যারের নিকট গেলে সহযোগিতা না পেয়ে ফিরতে হত না। আমরা স্যারকে অনেক মিস করব। খুবই অল্প সময়ে কুমিল্লা দাউদকান্দি সার্কেল অফিসার হিসেবে যোগদান করার পর পুরো এলাকায় একজন জনপ্রিয় পুলিশ ও জনবান্ধব পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ব্যপক পরিচিতি ও প্রশংসিত হয়েছিলেন তিনি।
