নজর২৪ ডেস্ক- সদ্য পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে তার নির্বাচনি জেলা জামালপুরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। জামালপুরে প্রবেশ করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাকে প্রতিহত করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তারা।
স্থানীয় বিএনপির নেতারা জানান, বর্তমানে বিএনপির দুঃসময় চলছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মনগড়া বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসতে চেয়েছিলেন মুরাদ। জামালপুরে মুরাদকে অবাঞ্ছিত করা হয়েছে। তিনি জেলাতে প্রবেশ করতে চাইলে প্রতিহত করা হবে।
আর আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, মুরাদকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সব পদ থেকে এরই মধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে এখনও তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য। এ জন্য মুরাদ জামালপুর কিংবা তার নির্বাচনি এলাকায় (সরিষাবাড়ী) প্রবেশ করলে কেউ বাধা দেবেন না। তবে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় নেতা-কর্মীরা তাকে ক্ষোভের দৃষ্টিতেই দেখছেন।
জামালপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সজিব খান বলেন, ‘মুরাদ অন্য দেশে জায়গা না পেয়ে আবারও বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, এটা লজ্জাজনক। তিনি নিশ্চয়ই জামালপুরে প্রবেশ করতে চেষ্টা করবেন। আমরা বিএনপির নেতা-কর্মীরা আলোচনা করেছি। সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাকে প্রতিহত করা হবে।’
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেছ আলী বলেন, ‘যেকোনো ভুল মন্তব্যের জন্য যে কেউ সমালোচিত হতে পারেন। তাই বলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ঘৃণার চোখে দেখে না। মুরাদ এমনই সমালোচিত ব্যক্তি, তাকে কেউ পছন্দ করে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুরাদকে হাসি-তামাশার খোরাক হিসেবে নেয়া হয়েছে। সবার কাছেই অবাঞ্ছিত ব্যক্তি। আমরাও তাকে জামালপুরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। জনগণও তার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে আছে। ঢাকাতে গোপনে অবস্থান করলেই ভালো, জামালপুরে এলে তাকে বাধা দিতে প্রস্তুত বিএনপি।’
সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বাদশা বলেন, ‘মুরাদের বিষয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। তার শাস্তি ইতিমধ্যে সে পেয়েছে, পাচ্ছে। আমরা তার বিষয়ে আর কোনো মন্তব্যও করতে চাই না। মুরাদ তার বাড়িতে আসবে কি না, এটা তার ইচ্ছা।’
