বিভিন্ন স্থানে বিএনপির মামলা: এবার মুখ খুললেন সেই নাহিদ রেইন্স

নজর২৪ ডেস্ক- সদ্য সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে লাইভ ভিডিওতে আলোচনার জন্য নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে নিজেদের সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে থামাতেই বিএনপি-জামায়াতের আইনজীবীরা মামলা করছেন বলে জানিয়েছেন মহিউদ্দিন হেলাল নাহিদ ওরফে নাহিদ রেইন্স।

 

রোববার (১২ ডিসেম্বর) নিজ ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় এই দাবি করেন নাহিদ রেইন্স।

 

নাহিদ রেইন্স বলেন, ‘আমার কোন দলীয় পরিচয় নেই। আমি বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলি। আর বাংলাদেশের যারা ক্ষতি করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে কথা বলি। আর এ কারণেই আমার বিরুদ্ধে এভাবে মামলা করা হচ্ছে।’

 

ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটে পৃথকভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে। সেই সঙ্গে প্রতিটি মামলায় জুড়ে দেয়া হয়েছে নাহিদ রেইন্সের নাম।

 

এ প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের বক্তব্য পেশ করে নাহিদ রেইন্স বলেন, “সংবাদমাধ্যমে জানতে পারি, ফেসবুক লাইভে ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে জিয়া পরিবার এবং ব্যারিস্টার জাইমা রহমান সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ, মর্যাদাহানিকর ভাষা ব্যবহার করার জন্য আমার নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাজশাহী, চট্টগ্রাম এবং ঢাকায় মামলা দায়ের করেছে বিএনপির আইনজীবীরা। অথচ দীর্ঘদিন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিএনপি-জামাতের সাইবার সন্ত্রাসীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিনিয়ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ দেশ ও সরকার বিরোধী হাজার হাজার গুজব অপপ্রচার সমৃদ্ধ পোস্ট, পোস্টার, ভিডিওসহ নানারকম কন্টেন্ট প্রচার করে যাচ্ছে।

 

বিভ্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই, সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে বিশৃঙ্খলা। মদদ দেওয়া হচ্ছে নাশকতাকারীদেরকে। যা অর্থের বিনিময়ে বুস্ট করে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন কমিউনিটিতে। সম্প্রতি আমার নামে বিভিন্ন অপপ্রচার করছে বিএনপি জামাতের সাইবার সন্ত্রাসীরা।’’

 

তিনি বলেন, গুজবের প্রতিত্তোরের জন্য ‘নাহিদরেইন্স পিকচার্স’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়াবলী নিয়ে আমি দীর্ঘদিন থেকেই ‘লাইভ’ অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, আলাপচারিতার মাধ্যমে সময়ের চলমান রাজনৈতিক গল্পগুজব এবং প্রচার-অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কিছু সত্য তথ্য তুলে ধরা। বিভিন্ন বিষয়ের গুজব ও অপপ্রচারের মুখোশ খুলে ফেলা এবং সমাজ সচেতনতামূলক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এই অনুষ্ঠানটি আমি চালু করি।

 

এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি সব সময় বাংলাদেশে পক্ষে কথা বলি এবং জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও মৌলবাদের বিপক্ষে কথা বলি।.. আমি কোন ব্যবসায়ী না, আমার কারো সঙ্গে ট্রানজেকশন নেই, আমি বড় কোন নেতাও না। আমি সাধারণ একজন মানুষ, একজন সাধারণ মানুষ যে আওয়ামী লীগের সমর্থক। এর বেশি কিছু নয়। কিন্তু যেহেতু আমি যুক্তি দিয়ে কথা বলছি এবং আমার কথা অনেকেই শুনছেন। যেহেতু আমি সত্যি কথা বলি এবং সত্য বলতে ভয় পাই না। তাই তারা আমাকে ভয় পাচ্ছে।

 

ভিডিও বার্তার সঙ্গে লেখা পোস্টে তিনি লেখেন, ১ ডিসেম্বর (২০২১) রাত ৯টায়, ‘অসুস্থ খালেদা জিয়া: বিকৃত বিএনপি নেতাকর্মী’ শিরোনামে একটি ‘লাইভ’ অনুষ্ঠান আয়োজন করি। কারণ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের অসুস্থ রাজনীতির কারণ ও উদ্দেশ্যগুলো সামনে আনতে চেয়েছিলাম। যেহেতু খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অনলাইনে-অফলাইনে বহুমুখী গুজব ছড়ানো হচ্ছিলো বিএনপির পক্ষ থেকে, তাই সেসব বিষয়ে কথা বলতে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে সদ্যসাবেক তথ্যপ্রতিমন্ত্রী কে যুক্ত করি। কিন্তু তিনি সেদিন প্রসঙ্গের বাইরে কথা বলে ফেলেন, যা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

 

এ কারণে পরবর্তীতে ৫ ডিসেম্বর (২০২১) রাত ১০টায়, ‘অনলাইনে রাজনৈতিক শিষ্টাচার’ শিরোনামে আরেকটি শো-এর আয়োজন করি। আগের অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের বক্তব্যের বিতর্কিত অংশের ব্যাপারে একটি ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্যই এই আয়োজনটি করা হয়েছিল। এ বিষয়ে অনুষ্ঠানের আগেও তাকে ব্রিফ করা হয়েছিল। তিনি সহমত পোষণ করেছিলেন যে- কেউ যদি তার বক্তব্যের কোনো অংশের বিষয়ে ভুল বুঝে থাকেন, সে ব্যাপারে একটি ইতিবাচক ব্যাখ্যা দেবেন তিনি এবং নাগরিক সমাজের কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী যদি তার বক্তব্যের কারণে সংক্ষুব্ধ হয়ে থাকেন, তাহলে তাদের কাছে ভুল স্বীকার করবেন। এ ছাড়াও গত কিছুদিন থেকে বিএনপি-জামায়াতের সিনিয়র নেতারা রাজনৈতিক বক্তব্যের সময় যেভাবে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করছেন, তাদের প্রতিও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখার আহ্বান জানানোর উদ্দেশ্যে এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হন সদ্যসাবেক তথ্যপ্রতিমন্ত্রী।

 

কিন্তু ‘অনলাইনে রাজনৈতিক শিষ্টাচার’ শিরোনামের অনুষ্ঠানে প্রসঙ্গের বাইরে ডা. মুরাদ কথা বলেন। নাহিদ লেখেন, ‘উপস্থাপক হিসেবে একজন মাননীয় প্রতিমন্ত্রীকে বারবার থামানোর চেষ্টা করাটাও আমার জন্য শিষ্টাচার বহির্ভূত হয়ে যেতো। তবে কোনোভাবে লাইভ অনুষ্ঠানটি শেষ করে, সঙ্গে সঙ্গে তা ফেসবুক থেকে মুছে দেই। এমনকি অনুষ্ঠান চলাকালে অনেকবার সদ্যসাবেক তথ্যপ্রতিমন্ত্রীর হয়ে আমি দুঃখ প্রকাশ করি।’

 

নাহিদ রেইন্স লেখেন, এরপরও আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিএনপির আইনজীবীরা। এর মানে আসলে আমার অপরাধ হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি-জামাতের গুজবের বিরুদ্ধে সত্য বলা। যখন সারাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা হচ্ছিল তখন সেই ইস্যুতেও বিএনপি জামাতের মুখোশ উন্মোচন করে দেয়া আমার অপরাধ। ঠিক এ কারণে বিএনপি জামায়াতের অনলাইন সন্ত্রাসীরা আমার বিপক্ষে অনলাইনে সক্রিয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *