জাহাঙ্গীরের মেয়র পদ থাকবে কিনা, যা বললেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

নজর২৪, ঢাকা- গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যেহেতু দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে তিনি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন, তাই এখন তার সেই পদ থাকবে কিনা- সে প্রশ্ন উঠেছে।

 

শনিবার (২০ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর সোনারগাঁর হোটেলে ড্যাপ নিয়ে এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামকে জাহাঙ্গীরের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন ওই প্রশ্ন করেন।

 

জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘মেয়র পদে থাকবে কিনা, এ বিষয়টা আইন পর্যবেক্ষণ না করে আমার পক্ষে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। আইন দেখে পরবর্তীতে এ ব্যাপারে মন্তব্য করা হবে। এখন মেয়র আছে। কতদিন থাকবে, সেটা আইন দ্বারা নিষ্পত্তি করা হবে।’

 

আইন দেখে পরবর্তীতে এ ব্যাপারে মন্তব্য করা হবে বলে জানান তাজুল ইসলাম।

 

এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করার দায়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

 

শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বৈঠকে মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে বহিস্কারের পর গাজীপুর মহানগরীর হারিকেন এলাকায় নিজ বাসভবনে শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে আসেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।

 

কাঁদতে কাঁদতে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমার ভুল হতে পারে, কিন্তু আমি কোনো পাপ বা অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত না। মানুষের ভুল হয়।’

 

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে দাবি করে মেয়র বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় চেয়েছিলাম কথা বলার জন্য। তবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় চেয়েও পাইনি।

 

‘যদি দেখা করে কথাগুলো বলতে পারতাম, তাহলে উনি সঠিক জিনিসটা জানতেন। ওনার কাছে সত্য তথ্য গেলে অবশ্যই ন্যায়বিচার পেতাম।’

 

মেয়র জাহাঙ্গীর আলম তাঁর আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘আমি কোনো অন্যায় করিনি, অপরাধ করিনি। আমি এ সাধারণ সম্পাদক পদ চাই না, বাকি জীবন আওয়ামী লীগের সাধারণ সদস্য ও সমর্থক হয়ে থাকতে চাই।’

 

তিনি বলেন, ‘আমার অস্তিত্বে প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু। আমার অভিভাবক হিসেবে তিনি যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বা দেবেন তা আমি মেনে নেবো। তিনি যদি বিনা কারণে আমাকে ফাঁ সি র দ ড়িতে ঝুলতে বলেন তাতেও আমি রাজি আছি। এতেও আমার দ্বিমত নেই।’

 

এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়লে উপস্থিত দলীয় নেতা-কর্মীরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে এখানে একটি হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *