বিনোদন ডেস্ক- বছর প্রায় শেষদিকে। ২০২০-এর মতো চলতি বছরে দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি সঙ্কটের মধ্যে কেটেছে। যদিও সম্প্রতি কিছুটা ছন্দে ফিরেছে ঢালিউড। তবুও সেটি আশা জাগানোর মতো নয়। কিন্তু এসব হিসাবকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন। প্রথম চমক শুরু হয় তার আলোচিত সিনেমা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’-এর কান চলচ্চিত্র উৎসবের যাত্রা দিয়ে।
প্রথমবার বাংলাদেশের কোনো সিনেমা বিশ্বের সবচেয়ে মার্যাদাপূর্ণ এই চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথমবার অফিসিয়ালি জায়গা পেল। আর এর মধ্য দিয়ে রেড কার্পেটে ঝলক দেখিয়েছে বাঁধন ও পরিচালক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদসহ সিনেমার অন্যান্য কলাকুশলীরা।
কোনো পুরস্কার না পেলেও ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ উৎসবে অন্যতম প্রশংসিত সিনেমা হিসেবে আলোচনা তৈরি করে। সেখান থেকে ফিরে বাঁধনের দ্বিতীয় চমক ছিল কলকাতার প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’। যেটির পরিচালক সৃজিত মুখার্জি।
এমন খবর যেন সিনেমাটির সফলতায় নতুন পালক যোগ হলো। সিনেমাটির চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হলো মুক্তির পর। ১২ নভেম্বর মুক্তি পায় এই সিনেমা। তবে এর একদিন আগে জানা গেল এশিয়া প্যাসিফি স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডে সেরা অভিনেত্রী হয়েছে বাঁধন।
‘রেহেনা মরিয়ম নূর’-এর একের পর এমন চমক সারা বছর সিনেমা নিয়ে আলোচনার কমতি একাই পূরণ করে দিয়েছে। শুধু তাই, ‘রেহfনা মরিয়ম নূর’ এখন বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাসের অংশ।
সম্প্রতি এক জাতীয় দৈনিকের ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠানে সম্প্রতি অতিথি হিসেবে ছিলেন আজমেরি হক বাঁধন। ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ মুক্তির পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দর্শকদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আমরা বেশ সন্তষ্ট। কারণ আমরা চেয়েছিলাম সিনেমাটি দেখার পর মানুষের মনে অনেক প্রশ্ন তৈরি হবে। সিনেমাটা করতে গিয়ে আমি যেমন ধাক্কা খেয়েছি, তেমনটা দর্শকদের সঙ্গেও হচ্ছে। যারা হল থেকে বের হচ্ছেন তাদের চোখ ভেজা না থাকলেও মনের ভেতরটা তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে।’
২০১৮ সালে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’-এ যুক্ত হোন বাঁধন। সেই অভিজ্ঞতা জানাতে দিয়ে তিনি বলেন, ‘সিনেমাটির কাস্টিং ডিরেক্টর আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমি সাদের প্রথম সিনেমা থেকে তার সম্পর্কে জানি। দারুণ একটি কাজ ছিল। সেই পরিচালকের দ্বিতীয় সিনেমা কাজ করার প্রস্তাব পাওয়া আনন্দের ছিল। কিন্তু শুরুতে ভাবিনি আমিই রেহানার চরিত্রটি করব।
কারণ এই চরিত্রের জন্য যেমন প্রমাণিত একজন অভিনেত্রী প্রয়োজন সেটি আমি নই। কিন্তু সাদ অভিনয়টা কীভাবে বের করতে হয় সেটা জানেন। তার চাওয়া ছিল, আমি যেন আমার শতভাগ দিয়ে অভিনয় করি। সিনেমাটি শুরুর দেড় মাস আগে আমি পুরো স্ক্রিপ্ট হাতে পাই। এর আগে খণ্ড খণ্ড আকারে শোনা হয়েছে। এই তো এভাবেই যুক্ত হওয়া।’
এ বছর বাঁধনের শেষ চমক ছিল বলিউডের সিনেমায় অভিষেক। বিশাল ভরদ্বাজের ‘খুফিয়া’তে অভিনয় করেছেন তিনি। সেখানকার অভিজ্ঞতা নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘সিনেমাটিতে আমি একজন বাংলাদেশির চরিত্রে অভিনয় করেছি। তাই খুব ভালো হিন্দি জানার প্রয়োজন ছিল না। শুরুতে নার্ভাস ছিলাম বেশ। কিন্তু তাদের আতিথেয়তা সব স্বাভাবিক করে দিয়েছে। আর কাজের প্রতি তাদের পেশাদারিত্ব দেখে আমি মুগ্ধ।’
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুলাইয়ে ৭৪তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের প্রথম কোনো বাংলাদেশি সিনেমা হিসেবে অফিসিয়াল সিলেকশনে জায়গা পেয়েছিল ‘রেহানা মরিয়ম নূর’; উৎসবে প্রদর্শনের পর বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও আলোচিত হয়েছে।
কানের পর আগামী বছরের অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস অস্কারের ৯৪তম আসরের বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম (বিদেশী ভাষা প্রতিযোগিতা) বিভাগে বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধিত্ব করবে এ সিনেমা।
রেহানা মরিয়ম নূর নামে মেডিকেল কলেজের একজন সহকারী অধ্যাপকের জীবন সংগ্রামের গল্পে নির্মিত এ ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
অভিনয় করেছেন আফিয়া জাহিন জাইমা, কাজী সামি হাসান, আফিয়া তাবাসসুম বর্ন, ইয়াছির আল হক, সাবেরী আলমসহ আরও অনেকে।
কানে প্রদর্শনের পর ভ্যারাইটি, হলিউড রিপোর্টার, এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, স্ক্রিন ডেইলিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে এসেছে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’; প্রকাশিত রিভিউয়ে নির্মাণ, গল্প ও অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।
সিনেমাটি দেখে বলিউডের নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ একে ভারতীয় উপ মহাদেশের ‘শক্তিশালী চলচ্চিত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের জানিয়েছেন শুভকামনা।
পোটোকল ও মেট্রো ভিডিওর ব্যানারে এ সিনেমার প্রযোজনা করেছেন সিঙ্গাপুরের প্রযোজক জেরেমী চুয়া, নির্বাহী প্রযোজক এহসানুল হক বাবু ও সহ-প্রযোজনা করেছেন রাজীব মহাজন, আদনান হাবিব, সাঈদুল হক খন্দকার।
এ চলচ্চিত্রের সিনেমাটোগ্রাফার তুহিন তমিজুল, প্রোডাকশন ডিজাইনার আলী আফজাল উজ্জল ও সাউন্ড ডিজাইনার শৈব তালুকদার। ছবিটি সহ-প্রযোজনা করেছে সেন্সমেকারস প্রডাকশন।
