নজর২৪, ঢাকা- ধ.র্ষ.ণ প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণসহ এ সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) ৭০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী এবং সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশ দেন।
গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনা (ধর্ষণ) রোধ করার ব্যাপক ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা মানুষের মাঝেও জনসচেতনতা সৃষ্টি করা দরকার। ইদানিং ধর্ষণটা ব্যাপকভাবে হচ্ছে এবং প্রচারও হচ্ছে। এটার যত বেশি প্রচার হয় প্রাদুর্ভাবটাও তত বাড়ে। সরকার ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান সংযুক্ত করে অধ্যাদেশ জারি করেছে।
প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকে যারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হলেন, আপনারাই থাকবেন আগামী দিনের কর্ণধার। আপনারাই দেশটাকে পরিচালনা করে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আজকে যারা নতুন প্রজন্ম তারাই ২০৪১ এর উন্নত বাংলাদেশ গড়ার সৈনিক। আমরা চাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হয়েই আমাদের কর্মচারীরা দেশ ও জনগণের সেবা করবে।
প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘যেহেতু মানুষের পেটের খাবার লাগবে, তাই কর্মসংস্থানের জন্য আমরা একশটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। সেখানে শিল্পায়ন এবং কৃষির ওপর আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। সেদিকে লক্ষ্য রেখে অর্থনীতির চাকা যেন সচল থাকে তার ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। সেইসঙ্গে দেশটা যেন এগিয়ে যেতে পারে, সেটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই কোনো অন্যায় অবিচার যেন না হয়। মানুষ যেন ন্যায়বিচার পায়। মানুষের জীবন যেন উন্নত হয়। মানুষের ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আমি জানি, বিচার না পেলে কি কষ্ট। আমার বাবা-মা ভাই ভ্রাতৃবধূ তাদেরকে যখন হত্যা করা হয়, খুনিদের ইনডেমিনিটি দেওয়া হয়েছিল। আমার বিচার চাওয়ার কোনো অধিকার ছিল না। শুধু আমি কেন, ১৫ আগস্ট যারা শাহাদাৎ বরণ করেছিল তাদের কারও বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না। আবার বাবা-মা ভাই মারা গেছে আমি একটা মামলাও করতে পারিনি। আমার সেই অধিকারও ছিল না। এই সংস্কৃতি যেন বাংলাদেশে আর না থাকে। মানুষ যেন ন্যায়বিচার পায়। শুধু আমি সরকারে আসতে পেরেছিলাম বলেই সেই খুনিদের বিচার করতে পেরেছি।’
এসময় সরকার প্রধান বলেন, ‘করোনাভাইরাস শুধু বাংলাদেশ না, সারা বিশ্বটাকেই যেন স্থবির করে দিয়েছে। তার মাঝেও আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রশাসন থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক-সামাজিক সব ধরনের অবস্থানগুলো যেন অব্যাহত থাকে, আমাদের মানুষ যেন সেবা পায়, মানুষের যেন ভোগান্তি কম হয়।’ সে লক্ষ্যে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
