আমার মেয়ে এত ভালো অভিনয় করতে পারে জানতাম না : বাঁধনের বাবা

বিনোদন ডেস্ক- ৭৪তম কান ফিল্ম ফেস্টিভালে প্রথমবারের মত বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে আজমেরী হক বাঁধন অভিনীত আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের সিনেমা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। ছবিতে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হচ্ছেন বাঁধন। মেয়ের এই সাফল্য দেখে বাঁধনের বাবা আমিনুল হক গর্ব বোধ করছেন।

বুধবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মহাখালির স্টার সিনেপ্লেক্সে ছিল ‘রেহানা মরিয়ম নূর’র ‘প্রেস শো’। ছবি শেষ হতেই প্রেক্ষাগৃহে আলো জ্বলে ওঠে। ততক্ষণে বাঁধনকে জড়িয়ে ধরে কান্না জুড়ে দেয় তার ১০ বছরের মেয়ে সায়রা। পাশে আপ্লুত বাঁধনের বাবাও। পর্দায় সায়রা তার মাকে দেখেছেন ঠিকই, কিন্তু অনুভব করেছেন রেহানার দ্বন্দ্ব ও সংগ্রাম।

সিনেমায় সায়রার বয়সের একটি মেয়ে চরিত্র আছে। তার কষ্টকে হয়তো নিজের কষ্টের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলেছে ছোট্ট সায়রা। সায়রার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে বাঁধন মানা করেন। তাই সায়রার মনের অবস্থা জানা যায়নি তখন।

বিশেষ এ প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন বাঁধনের বাবা আমিনুল হক। অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে যে এত ভালো অভিনয় করতে পারে আমি তা জানতাম না, আমাদের পরিবার কখনো চাইতো না বাঁধন মিডিয়ায় কাজ করুক। সবাই বলতো মেয়ে মানুষ এইগুলো করবে কেন? সে ডাক্তার হচ্ছে তা করুক। কিন্তু আমি চাই তা যে বাঁধনে যা ভালোভাবে করতে পারবে তাই করুক। আজ মনে হচ্ছে আমি সফল মেয়ে কাজ দেখে। সে তার কাজটা ঠিকমতো করছে। আজ কে খুব ভালো লাগছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিনেমা দেখে আমার কাছে মনে হয়েছে যে আমার মেয়ে বাঁধন আর নাতনির সংগ্রাম দেখছি। এই রকমের একটা সময় পার করতে হয়েছে তাদের। আমার মেয়েটার জন্য দোয়া করবেন সবাই। দেশে জন্য আরও ভালো কিছু করতে পারে যেন বাঁধন।’

নাতনির কান্না নিয়ে বাঁধনের বাবা আমিনুল হক বলেন, সিনেমায় সায়রা তার মাকে কাঁদতে দেখছে। এমনিতেই সে খুব ইমোশনাল। কান্নার দৃশ্য দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি। বাসাতে যখন থাকে সেও ইমোশনাল আচরণ করে।

তার মা (বাঁধন) বাস্তব জীবনেও অনেক সংগ্রাম করেছে। বাস্তবতার সাথে অনেকটা মিলে যাওয়ার জন্য সায়রা কেঁদেছে বলে মনে করেন বাঁধনের বাবা আমিনুল হক।

তিনি বলেন, বাস্তব জীবনের সংগ্রাম সিনেমায় বাঁধন ফুটিয়ে তুলেছে এজন্য আমার কাছে বেশি ভালো লেগেছে। বাবা হিসেবে যেমন আমি আমার মেয়ের জন্য সবসময় দোয়া করি তেমনই দেশের মানুষ সবসময় বাঁধনকে দোয়া করুক এটাই চাওয়া থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *