নজর২৪ ডেস্ক- হঠাৎ করে গণপরিবহন ও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পর্যটন শহর কক্সবাজারে বেড়াতে এসে প্রায় ২০ হাজার পর্যটক আটকা পড়েছেন। এসব পর্যটক গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার ভোরে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় তারা নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারেননি।
কিন্তু পর্যটকদের চট্টগ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ। শনিবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কক্সবাজারে বেড়াতে এসে আটকা পড়েছেন প্রায় ২০ হাজার পর্যটক। যার ফলে বড় ধরনের ক্ষতিরমুখে পড়েছেন পর্যটকরা। সে বিবেচনায় নিজস্ব পরিবহনে পর্যটকদের ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের মাধ্যমে এ খবর পর্যটকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। হয়তো বিকেল থেকেই এ কার্যক্রম শুরু হবে। তবে এ বাসগুলোতে কোনো ভাড়ার প্রয়োজন হবে না।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে হঠাৎ গণপরিবহন ও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে শুক্র ও শনিবার ফিরে যাওয়ার সিডিউল থাকা প্রায় ২০ হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। শনিবার (৬ নভেম্বর) যাদের বিশেষ কাজ আছে, তাদের অনেকে অতিরিক্ত ভাড়ায় উড়োজাহাজে করে কক্সবাজার ত্যাগ করেন। কিন্তু যাদের সেই সামর্থ্য নেই তারা ছোট যানবাহনে কক্সবাজার ছাড়ার চেষ্টা চালান।
তবে অন্য সময়ের চেয়ে ভাড়া দু-তিনগুণ হওয়ায় শনিবার দুপুর পর্যন্ত কক্সবাজার ত্যাগ করতে পারেননি আটকা পড়েন অনেকে। তাদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয় জেলা পুলিশ।
কক্সবাজার তাজ করপোরেশন অ্যান্ড ট্রাভেলস সেন্টারের মালিক জানে আলম বলেন, কক্সবাজার থেকে বিমানের ফিরতি টিকেটের দাম হঠাৎ বেড়েছে। অন্য সময় ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকায় যেতে পারলেও শুক্রবার-শনিবার সর্বনিম্ন ৭ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। যার কারণে অনেক পর্যটক টিকিট করতে এসেও সাধ্যের ভেতর না হওয়ায় ফিরে গেছেন।
ফেডারেশন অব ট্যুরিজম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, হঠাৎ দূরপাল্লার বাস বন্ধ হওয়াতে পর্যটকরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও।
কক্সবাজার বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, গণপরিবহন বন্ধের বিষয়টি জাতীয় ইস্যু। এ ব্যাপারে সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
