শাকিব খানের সংবাদ শেয়ার করে সদস্যপদ হারালেন নির্মাতা রবিন?

shakib khan n23

বিনোদন ডেস্ক- বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সমিতির সদস্যপদ হারিয়েছেন ‘কমন জেন্ডার’-এর নির্মাতা নোমান রবিন। একইসঙ্গে বর্তমান কমিটিতে তার আন্তর্জাতিক ও তথ্য সচিব পদও বাতিল করা হয়েছে। পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

 

সোহান বলেন, নোমান রবিন সংগঠনের সংবিধানের ৭ ও ১১ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করায় তার সদস্যপদ এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী সদস্যপদ স্থগিত হওয়ায় তার আন্তর্জাতিক ও তথ্য সচিব পদটিও বাতিল হয়ে গেছে।

 

কী কারণে এ সিদ্ধান্ত— জানতে চাইলে সোহান বলেন, তিনি সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কিছু কাজ করেছেন। এ কারণে তাকে শোকজ করা হয়েছিল। শোকজের জবাবে তিনি যে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, তা সমিতির কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি। তাই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে সমিতির উপমহাসচিব পরিচালক অপূর্ব রানা এ বিষয়ে জানান, নোমান রবিন বিভিন্ন সময়ে সমিতি ইস্যুতে ফেসবুকে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যে কারণে সমিতি মনে করেছে যে তাদের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। এছাড়া তিনি অনলাইনে একটি শো করেন। সেখানে সমিতি নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনাও করা হয়েছে। এসব কেন করেছেন, তা জানতে চেয়ে এক মাস আগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তার উত্তরও নোমান রবিন দেন।

 

নোমান রবিনের উত্তর নিয়ে শনিবার (৩০ অক্টোবর) বৈঠক করে পরিচালক সমিতি। সেখানে তার সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়— জানান অপূর্ব রানা।

 

এ প্রসঙ্গে নোমান রবিন বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমাকে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়।আমি উত্তর দিয়েছি।কিন্তু দ্বিতীয় চিঠির জবাবে তারা আমাকে বহিষ্কার করেছে।এর কারণ হিসেবে জানা গেছে- ফেসবুকে আমার কিছু ভাবনা তুলে ধরেছি এবং শাকিব খানের একটি সংবাদ শেয়ার করে মন্তব্য করেছি। এ দুটি কারণে আমার সদস্যপদ হারাতে হয়েছে। আমরা যারা তরুণ নির্মাতা আছি, তারা সিনেমা নির্মাণ করে দর্শককে প্রেক্ষাগৃহমুখী করার চেষ্টা করছি। সমিতিকে নিয়মিত চাঁদা দিচ্ছি।তারপরও আমাদের কাজে অসুবিধা হয়।সমিতি থেকে কোনো সহযোগিতা পাই না। বরং তারা কাজে বাধা প্রয়োগ করে। এমন লোক দিয়ে তো সমিতি চলতে পারে না।’

 

সদস্যপদ ফিরে পেতে সর্বশেষ পদক্ষেপের কথা জানিয়ে রোমান রবিন বলেন, ‘আমি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।এরই মধ্যে আইনজীবির সঙ্গে কথা বলেছি।যেহেতু গত আট বছর ধরে আমি সমিতিতে চাঁদা দিচ্ছি, তাই আইন অনুযায়ী তারা আমার সদস্যপদ স্থাগিত করতে পারে কিনা সেটি আদালতের মাধ্যমে জানতে চাই।কার্যনির্বাহী সদস্যপদ থেকে প্রত্যার করেছেন, তা নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই। বিভিন্ন সময় আমি নতুন পরিচালকদের সমিতির সদস্য হতে আগ্রহী করেছি।তার ফল এই?’

 

পরিচালক সমিতি নিয়ে এই নির্মাতা আরো বলেন, ‘যে বিল্ডিংয়ে সমিতি রয়েছে, সেটি লাইব্রেরির অনুমতি থাকলেও সমিতি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।এখানে কোনো লাইব্রেরি নেই।একটা রুমে অল্প কিছু বই আছে।কিন্তু সেখানে সাধারণ সদস্যরা প্রবেশ করতে পারে না।সেটি তালাবদ্ধ রাখা হয়। শুধু কার্যনির্বাহী সদস্যরা প্রবেশ করতে পারেন।সমিতির পদ ব্যবহার করে অনেকেই ব্যক্তিগত সুবিধা নিচ্ছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *