মুশফিকের ওপর ক্ষিপ্ত রুবেল, তর্কে জড়ালেন মিশার সঙ্গে

বিনোদন ডেস্ক- ঢাকাই ছবির এক সময়ের জনপ্রিয় নায়ক রুবেল ক্রিকেট নিয়ে বাক বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লেন আরেক অভিনেতা মিশা সওদাগরের সঙ্গে। শুক্রবার কমিউনিটি পুলিশের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি কয়েকজন চিত্রতারকা। কথা বলছিলেন চিত্রনায়ক রুবেল।

 

রুবেল বলেন, সারা জাতি তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। তাদের প্রতি সমর্থকেরা আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে থাকে। আর তারা যদি জেনে শুনে আত্মাহুতি দিয়ে আসেন তাহলে আমরা এটা ভালোভাবে মেনে নেব না।

 

এমন কথা বলার পরই মাইক্রোফোনের সামনে তর্কে জড়ান রুবেল মিশা। এ সময় রুবেলকে লক্ষ করে মিশা বলেন, আমাদের দল বিশ্বকাপে খেলতেছে এটা সম্মানের, কী হইছে ভুল এটা কিন্তু সম্মানের না। আমি সকলের কাছে অনুরোধ করছি যারা অনেক আবেগপ্রবণ, আমরা হার পরাজয় মানি না। ওরা খেলতেছে এটাই বড় কথা। যাদের সঙ্গে খেলতেছে ওরা র‍্যাঙ্কিঙে অনেক এগিয়ে। সো ওরা খেলতেছে ওদেরকে আমরা কুৎসা বা গালমন্দ না করি।

 

এই কথার তীব্র প্রতিবাদ করেন রুবেল। তিনি বলেন, মিশার কথার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছি। ওরা যদি খেলতে গিয়ে গিয়ে জেনে শুনে আত্মাহুতি দেয় তাহলে হান্ড্রেড পার্সেন্ট আমরা মেনে নেব না। আমি পার্টিকুলারলি একজনের নাম বলতে চাই।

 

এর আগে সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হয়েছেন, রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে এলডব্লিউ হয়েছেন। তিনি কি করলেন সর্বশেষ খেলায়, চরম একটা সময় যখন, তিনি করলেন স্কুপ। আমি মনে করি এটা জেনে শুনে আত্মাহুতি। আমরা এটা শা করতে পারি।

 

এ কথার সময় মিশার সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা হয়ে যায়। মিশা এগিয়ে এসে কথা বলতে শুরু করলে রুবেল থামিয়ে নিজের কথার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে উচ্চগ্রামে চলে যান। এরপরে মিশা কথা বলতে শুরু করেন। মিশা বলেন, মুশফিক এই স্কুপ খেলেই সবচেয়ে বেশি রান এনেছেন এবং জিতিয়েছে বাংলাদেশকে… মিশার কথার মাঝেই রুবেল চিৎকার করে বলেন এবং হারিয়েছে, এবং হারিয়েছে। সর্বশেষ খেলায় কী হয়েছে সেটা দেখবো আমরা।

 

এক সাক্ষাৎকারে রুবেল মনে করেন তারকাদের সমালোচনা গ্রহণের ক্ষমতা থাকতে হবে, ‘আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, উনারা সমালোচনা নিতে পারে না। কিন্তু উনাদের নিতে পারা উচিত। উনারা যখন ভালো রেজাল্ট করে, তখন আমরা দেশ ও জাতি উনাদের অনেক কিছু দেই। কিন্তু আমি আগেও বলেছিল আবারও বলছি, উনারা যখন আত্মঘাতী কাজ করবে; রবীন্দ্রনাথের ভাষায় জেনে শুনে বিষ পান করবে; তখন তাদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত। তারা জিতলে পরে যখন তাদের সবকিছু দিচ্ছি, গাড়ি-বাড়ি টাকা-পয়সা সব দিচ্ছি; আমি জেনেশুনে যখন একটা দেশকে ডুবিয়ে দিচ্ছি, এমন খেললে আমাদের ক্ষতি হবে, সেখানে আপনাদের কী বিচার আছে? আমরা তো কিছু করছি না। কেন? আমরা শুধু তাদের দিয়েই যাব, তারা যা খুশি খেলবে সেটা তো হবে না।’

 

একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাতকারে নায়ক রুবেল বলেন, ‘তামিমের মতো হার্ডহিটার প্লেয়ার কেন এবারের বিশ্বকাপ দলে নেই এটা আমার একটা জিজ্ঞাসা। আর মুশফিক সাহেবের কাছে আমার জিজ্ঞাসা, যেহেতু রিভার্স সুইপ খেলে মাঝেমধ্যেই আপনি দেশকে একটা খারাপ জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন; সেহেতু আপনি নরমাল শট কেন খেলেন না? নরমাল শটে তো আপনি অনেক ভালো খেলেন। গতকালের (শুক্রবার) খেলায় মুশফিক এবং লিটন যখন ভালো খেলছিলেন, তখন মুশফিকের স্কুপ করার তো কোনো দরকার ছিল না। তাদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। কারণ উনারা বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করছে। ‘

 

মুশফিকের এমন আত্মঘাতী শট খেলা উচিত হয়নি উল্লেখ করে রুবেল বলেন, ‘উনি এমন আত্মঘাতীমূলক খেলা খেলবেন… এমন শট আমি কখন খেলবে? যখন হাতে ৬ উইকেট আছে এবং জয়ের জন্য প্রয়োজন ১০ রান। কিন্তু এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ খেলা, যেখানে আগের ম্যাচে আমরা হেরেছি। সেই ম্যাচেও তিনি রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন; সেক্ষেত্রে গতকাল (শুক্রবার) এমনটা করা উচিত হয়নি। আমি উনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, দেশ ও জাতি আপনাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। আপনারা ভালো করলে আমরা হাসি। ঘরের ভেতরে চিৎকার দেই, সেই চিৎকার শুনে পাশের বাসার লোকজন দৌড়ে আসে। এমন জোরে চিৎকার করি আমরা তাদের জন্য। ‘

 

তিনি বলেন, ‘আমি দেশকে ভালোবাসি। দেশের জন্যই চিৎকার করি। উনাদের জন্য (ক্রিকেটার) আমার অনেক ভালোবাসা আছে। অনেক সময় রাগে উনাদের দুই-চারটা কথা বলি। এটা কিন্তু মেনে নিতে হবে। হিরো হিসেবে আমিও অনেক কথা শুনেছি। সমালোচনা শুনতে হবে। সমালোচনা শুনে আপনি বলবেন- আয়নায় নিজের চেহারা দেখেন; এটা ঠিক না। আপনি যখন যেখানে যাবেন, আপনাকে জানতে হবে যে সমালোচনার সন্মুখীন হবেন। আপনি যেই হোন না কেন। আমি আড়াইশ ছবির হিরো। আমাকেও অনেক সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে। তার জন্য কাউকে কোনোদিন কিছু বলিনি। আমারটা আমি করে যাব। আপনি ভালো কী করে করবেন, দেশ ও জাতিকে ভালো কী উপহার দেবেন, সেই চিন্তা করেন। ‘

 

রুবেল মনে করেন তারকাদের সমালোচনা গ্রহণের ক্ষমতা থাকতে হবে, ‘আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, উনারা সমালোচনা নিতে পারে না। কিন্তু উনাদের নিতে পারা উচিত। উনারা যখন ভালো রেজাল্ট করে, তখন আমরা দেশ ও জাতি উনাদের অনেক কিছু দেই। কিন্তু আমি আগেও বলেছিল আবারও বলছি, উনারা যখন আত্মঘাতী কাজ করবে; রবীন্দ্রনাথের ভাষায় জেনে শুনে বিষ পান করবে; তখন তাদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত। তারা জিতলে পরে যখন তাদের সবকিছু দিচ্ছি, গাড়ি-বাড়ি টাকা-পয়সা সব দিচ্ছি; আমি জেনেশুনে যখন একটা দেশকে ডুবিয়ে দিচ্ছি, এমন খেললে আমাদের ক্ষতি হবে, সেখানে আপনাদের কী বিচার আছে? আমরা তো কিছু করছি না। কেন? আমরা শুধু তাদের দিয়েই যাব, তারা যা খুশি খেলবে সেটা তো হবে না। ‘

 

দেশবাসী ক্রিকেটারদের কতটা ভালোবাসে তা উল্লেখ করে রুবেল বলেন, ‘আমরা তাদের দিকে তাকিয়ে থাকি। সারাদেশ, গোটা জাতি তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। তারা জিতলে আমরা রাস্তায় পাগলের মতো মিছিল বের করি, কাদের জন্য করি? উনাদের জন্যই তো করি। উনাদের তো সমালোচনা সইতে হবে। উনারা যখন ভালো করে তখন আমরা গলা ফাটিয়ে চিৎকার করি, খারাপ খেললে আমরা চিৎকার করব না। আমি ব্যক্তিগতভাবে একজন স্পোর্টসম্যান হিসেবে কখনই চিৎকার করব না। একজন প্লেয়ার একদিন ভালো খেলবে আরেকদিন মন্দ করবে সেটা হতেই পারে। টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডেতে আমি মনে করি, তামিমের চেয়ে ভালো প্লেয়ার আমাদের দেশে নেই। ‘

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *