নজর২৪ ডেস্ক- স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের ১৭টি নথি পাওয়া যাচ্ছে না। গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি নজরে আসে মন্ত্রণালয়ের। ওই দিনই শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুত হাওলাদার জানান, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) শাহাদৎ হোসাইনের (ভবন নং-৩, রুম নং-২৯) কক্ষে ক্রয় ও সংগ্রহ শাখা-২-এর সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. জোসেফ সরদার এবং সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর আয়েশা সিদ্দিকার হেফাজতে থাকা ১৭টি ফাইল পাওয়া যাচ্ছে না।
জিডি সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সংশ্লিষ্টরা অফিস করে ফাইলগুলো ফাইল কেবিনেটে রাখেন। পরবর্তী সময়ে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে কাজ করতে গিয়ে তারা দেখেন ফাইলগুলো কেবিনেটে নেই।
উপসচিব নাদিয়া হায়দার শাহবাগ থানায় জিডিটি করেন। বৃহস্পতিবার জিডি হওয়ার পরই সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিআইডির দক্ষিণ বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে ক্রাইম সিন ইউনিটসহ একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সিআইডির টিম ঘটনাস্থলে অবস্থান করে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিদর্শনের সময় উপসচিব (প্রশাসন) মো. সারোয়ার মোর্শেদ, উপসচিব (ক্রয় ও সংগ্রহ শাখা-২) নাদিয়া হায়দার এবং সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. জোসেফ সরদারকে ঘটনা সর্ম্পকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্ত চলমান।’
অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) শাহাদৎ হোসাইন বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পের পাঁচটি গাড়ি কেনা, মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের জন্য বরাদ্দের নথি ছিল। সবকিছু নির্দিষ্ট করে আসলে এখন বলা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরসহ কিছু প্রকল্পের নথি সেখানে ছিল।
নকল চাবি দিয়ে তালা খোলা হয়েছে বলে ধারণার কথা জানান শাহাদাৎ হোসাইন। তিনি বলেন, সব গোয়েন্দা সংস্থাকে জানানো হয়েছে। গায়েবের কারণ ও জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। নথিগুলো উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। নথিগুলো চলমান ছিল না বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব আলী নূর জানান, অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেছেন। যেহেতু তদন্ত চলছে, এখন আর কিছু বলা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ্আলমের নেতৃত্বে সেই কমিটি এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে বলেও জানান আলী নূর।
