ভাত খাওয়া নিয়ে আমি কোনো কথা বলিনি: কৃষিমন্ত্রী

নজর২৪, ঢাকা- বাংলাদেশের মানুষ ভাত বেশি খায় বলে চালের সংকট- বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বরাত দিয়ে আসা বক্তব্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন ‍কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। বলেন, এমন কোনো কথাই তিনি বলেননি।

 

শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপকমিটির এক সেমিনারে মন্ত্রী এমন কথা বলেন। সেমিনারের বিষয় ছিল ‘বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ২০২১: বাংলাদেশে প্রত্যাশা’।

 

চালের সংকট কমাতে কৃষিমন্ত্রী দেশের মানুষকে ভাত কম খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জানিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ে।

 

এরপর মঙ্গলবার রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সেখানে কৃষিমন্ত্রী দাবি করেন, ভাত কম খেতে বলেননি তিনি।

 

এরও তিন দিন পর সেনিমারে মন্ত্রী বলেছেন, ‘এ ধরনের কথা আমি কোনো দিনই বলি না। আমি এ প্রসঙ্গই আনিনি।

 

‘৭৭টি মিডিয়া আমার বক্তব্য কাভার করেছে। একটি ভুঁইফোঁড় পত্রিকা তারা নিউজ করেছে আমি নাকি বলেছি, মানুষ ভাত বেশি খায়, এ জন্য চালের দাম বেড়ে গেছে। এ ধরনের কথা আমি কোনো দিনই বলি না। আমি এ প্রসঙ্গই আনিনি।’

 

আগামী প্রজন্মকে ‘সৃজনশীল’ ও ‘মেধাবী’ করে তুলতে সরকার পুষ্টিজাতীয় খাবারের ব্যবস্থা করতে চায় জানিয়ে রাজ্জাক বলেন, “জাপান চার বেলা ভাত খায়, কিন্তু তাদের কনজাম্পশন ২ গ্রামেরও কম।

 

“সেখানে আমরা আগে ৪৩০ গ্রাম খেতাম এখন এটা কমে ৩৭০ গ্রামে আসছে। আস্তে আস্তে কমছে। মানুষের যেহেতু আয় বাড়ছে, মানুষ এখন শাক সবজি, ফলমূল, ডিম, মাছ মাংস সে দিকেই বেশি যাচ্ছে।”

 

পুষ্টিকর খাবারই সরকারের লক্ষ্য জানিয়ে তিনি বলেন, “এটি আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছি, আমরা পুষ্টি জাতীয় খাবার এবং সি ফুড মানুষকে দেব। এটাই এখন আমাদের চ্যালেঞ্জ।

 

“এটা করার জন্য কৃষির আধুনিকীকরণ করতে হবে। আমরা যান্ত্রিকীকরণ করছি। আমরা কৃষিপণ্যকে যান্ত্রিকীকরণ করব প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে। আমাদের কৃষকদের আয় বাড়াতে হবে, তাদের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে হবে।”

 

সেমিনারে কৃষিমন্ত্রী বলেন, “ধানের জাত এবং চাষাবাদ কী হওয়া উচিত, সেগুলোর ওপরেও আমাদের বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন। মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা একটি বিষয় ছিল। আমরা চাল জাতীয় খাবারে অনেকটা আত্মনির্ভারশীল। যদি ভালো আবহাওয়া থাকে, আমাদের কোনো সমস্যা হয় না। আমরা খাদ্যে উদ্বৃত্ত থাকি।”

 

‘বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ২০২১: বাংলাদেশের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এ সেমিনারে মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় কৌশলগত পরিকল্পনা করা হয়েছে। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকার এসব কাজ শুরু করেছে।

 

“আমাদের বিজ্ঞানীরা বিআর-৬৭ নামে একটা জাত আবিষ্কার করেছে। ইনশাল্লাহ এটা কোস্টাল এড়িয়াতে হবে। আমরা গমের জাত আবিষ্কার করছি যা উষ্ণ অবস্থার মধ্যে, অর্থ্যাৎ জলবায়ু পরিবর্তন হোক আর না হোক, আমরা প্রতিকুল পরিবেশ মোকাবেলা করার জন্য প্রস্ততি নিচ্ছি। কারণ বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনে কৃষিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *