বিনোদন ডেস্ক- তরুণ প্রজন্মের কাছে এখন ন্যাশনাল ক্রাশ পরীমনি। দেশের চলচ্চিত্র জগতের খবর যারা রাখেন তাদের কাছে খুবই আলোচিত এক নাম পরীমনি। তবে বিতর্ক আর পরীমনি যেন এখন সমার্থক শব্দ হয়ে গেছে। পরীমনির বিরুদ্ধে রাজধানীর বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বর্তমানে জামিনে আছেন পরীমনি।
এ ঘটনার বিতর্কের কিছুটা অবসান ঘটার পরেই আবারও গত (২৪ অক্টোবর) জন্মদিনের পার্টিতে তাঁর পোশাক নিয়ে ফের সমালোচনার মুখে পড়েছেন পরী। কিন্তু বিগত কয়েক মাস ধরেই তাঁর ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা চলছে সব জায়গায়। সোশ্যাল মিডিয়াতে সবসময়ই তাকে নিয়ে চর্চা হয়ে থাকে। কিন্তু সেই সমস্ত সমালোচনা ব্যঙ্গ ইত্যাদিকে পিছনে ফেলে বরাবর সাহসী পদক্ষেপ ধরা দিয়েছেন পরী আর আপন গতিতে উড়ছে নিজ আঙ্গিনায় মাটির পরী। তাই তো-দুদিনের ছুটি শেষে আবারও ফিরেছেন সিনেমা শুটিংয়ে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার অষ্টগ্রামের কালীমন্দির বটতলায় গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘গুনিন’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন পরীমনি। এতে পরীমনির বিপরীতে আছেন শরিফুল রাজ। এ ছাড়াও অভিনয় করছেন ইরেশ যাকের, আজাদ আবুল কালামসহ অনেকে।
এর আগে জন্মদিনে পরীমনির বিশেষ পোশাকে ধুমছে নাচ এবং সেই ভিডিও ভাইরাল হলে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। নাচের চেয়ে পরীমনির পোশাক নিয়ে আলোচনা বেশি। তার পরনে ছিল লাল রঙের শার্ট, মাথায় লাল-সাদার সমন্বয়ে টুপি। এ ছাড়া নিম্নাংশ আবৃত করেছেন সাদা রঙের একটি কাপড়ে, যেটা অনেকটা লুঙ্গির মতো দেখতে। কাছা দেওয়ার ভঙ্গিমায় সেটি পরেছেন তিনি।
আর নেটিজেনরা বেশি নেতিবাচক মন্তব্যও করেছেন পরীমনির সাজ নিয়ে। এমন সাজে উল্টাপাল্টা নেচে সমালোচিত হয়েছেন নায়িকা। কেউ কেউ একে বলছেন ‘বেলাল্লাপনা’। আবার কেউ পরীমনির সাম্প্রতিক কার্যক্রমকে ‘সাহসী’, ‘উচিত জবাব’ বলছেন।
এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে পরীমনি বলেন, ‘বার্থডে প্রোগ্রামটা ছিল আমার ঘরোয়া অনুষ্ঠান। আমি কাছের মানুষদের ইনভাইট করেছি। এখানে কিছু বাইরের লোক ঢুকে পড়েছে। তারাই ভিডিও করে প্রকাশ করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি পাবলিক কোনো অনুষ্ঠানে এটা করিনি। ঘরোয়া অনুষ্ঠানে আমি নাচ-গান করতেই পারি। আমার ইচ্ছে ছিল দিনটিতে নিজের মতো করে আনন্দ করার; আমি করেছি। এসব নিয়ে কারা সমালোচনা করছেন আমি জানি না, ভাবছিও না। তবে আমার অনুমতি ছাড়া যারা বাহিরে ভিডিও প্রকাশ করেছেন, তারা অপরাধ করেছেন।’
পরীমনি বলেন, ‘জন্মদিনের পোশাক আমি নিজেই পছন্দ করেছি। এটার আলাদা কোনো নাম নেই। কোনো ডিজাইনারও পোশাকটি বানায়নি। অনুষ্ঠানটি ঘরোয়া ছিল, তাছাড়া আমি তো আর সত্যি সত্যি ককপিটে বসে ফ্লাই করবো না। যে কারণে পোশাকের ক্ষেত্রেও কোনো রুলস মেনে করা হয়নি। জাস্ট পছন্দ হয়েছে পরেছি।’
প্রসঙ্গত, এর আগে গত বছর শাহবাগে অবস্থিত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জন্মদিনের পার্টির জমকালো আয়োজন করেছিলেন পরীমনি। সেই পার্টি নিয়েও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল। তার আগের বছর নায়িকার জন্মদিনের পার্টি হয়েছিল হোটেল সোনারগাঁয়ে। সেখানেও আয়োজনের কোনো ঘাটতি ছিল না।
