সাম্প্রদায়িকতা রুখতে সচেতন হতে হবে ভারতকে: প্রধানমন্ত্রী

নজর২৪ ডেস্ক- সাম্প্রদায়িকতা রুখতে ভারতকে সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, সে দেশে সাম্প্রদায়িক কোনো ঘটনা ঘটলে তার রেশ প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশেও পড়ে।

 

কুমিল্লার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছেন, কেউ যেন এ ধরনের কাজ আর করতে সাহস না পায়, তার ব্যবস্থাই করবে সরকার।

 

বৃহস্পতিবার মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি আয়োজিত ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী ভারত মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের সহযোগিতা করেছে। তাদের কথা আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। তবে সেখানেও এমন কিছু না করা হয়, যার প্রভাব আমাদের দেশে এসে পড়ে আর আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত আসে। এ ব্যাপারে তাদেরও একটু সচেতন থাকতে হবে। এটা আমার অনুরোধ থাকল।

 

‘আমাদের দেশে ৭৫-এর পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল, বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াতের হাতেই ধর্মের নামে বিভেদ-দ্বন্দ্ব সৃষ্টির শুরু। এ ছাড়া সারা বিশ্বেই জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়াতে তার একটা প্রভাব এসে পড়ছে দেশে। এটা শুধু আমাদের দেশ না, আমাদের প্রতিবেশী দেশকেও এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে, সচেতন থাকতে হবে।’

 

বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের উল্লেখ করে মুসলমান ছাড়া অন্য ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যালঘু না ভাবার পরামর্শও দেন আওয়ামী লীগপ্রধান। বলেন, ‘আপনাদের আমরা আপনজন হিসেবে মানি। এ দেশের নাগরিক হিসেবে মানি। সম-অধিকার নিয়ে আপনারা বসবাস করেন। সম-অধিকার ভোগ করবেন, ধর্ম পালন করবেন। সেটাই আমরা চাই। এটাই আমাদের বাংলাদেশের আসল নীতি, আসল সৌন্দর্য।

 

‘আমি চাই আমাদের দেশের মানুষ সুন্দরভাবে বসবাস করবেন এবং সব ধর্মের মানুষ তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবেন। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

 

ইসলাম ধর্ম সব সময় পরমত ও ধর্মের সহিষ্ণুতায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। বলেন, “আমাদের সুরা কাফিরুনে স্পষ্ট করে বলা আছে, ‘লাকুম দ্বীনিকুম ওয়ালিয়াদ্বীন’, অর্থ যার যার ধর্ম তার তার কাছে।”

 

‘সেখানে কিন্তু বিভেদের কথা বলে নেই, অন্য ধর্মের স্বাধীনতার কথাই বলা হয়েছে।’

 

কুমিল্লার ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তদন্ত শুরু করেছি। যে জড়িত, সে যে ধর্মেরই হোক না কেন, খুঁজে বের করা হবে। এখন তো তথ্য প্রযুক্তির যুগ। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে এ কাজ করা হচ্ছে।’

 

তিনি বলেন, ‘গতবার করোনার কারণে পূজা সীমিত পরিসরে হয়েছিল। এবার করোনার প্রকোপ কমে আসায় মণ্ডপের সংখ্যাও বেড়েছে। গতবারের চেয়ে এবার ১ হাজার ৯০৫টি মণ্ডপ বেড়েছে।’

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এবার শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন হচ্ছে। মন্দিরগুলোতে নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত আছে। যখন অস্থায়ী মন্দির হয়, তখনই কিছু লোক সুযোগ নেয়। পূজা উদযাপন পরিষদসহ যারা আছেন, তারা বিষয়টি যেন মনিটরিং করেন। কোথায় কতগুলো মণ্ডপ হবে, তারা নির্ধারণ করতে পারেন।’

 

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও অনুরোধ করব, তারাও যেন মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে সহযোগিতা করেন। আমি চাই, দেশের মানুষ সুন্দরভাবে উৎসব উদযাপন করবেন। তারা ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবেন, সেটিই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য।’

 

মহানগর সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন—বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্নাত্মানন্দ মহারাজ, মহানগর সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিশোর রঞ্জন মণ্ডল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *