যতদিন তোমরা আছ, ততদিন আমি আছি: জেমস

বিনোদন ডেস্ক- তিনি এক নাগরিক বাউল; তিনি নগর বাউল। যে নগর বাউল জেগে থাকে এই শহরে; কখনও রাস্তায় রাস্তায়, কখনও খোলা জানালায় বসে দেখেন জ্যোৎস্না আর সেই অনুভূতি প্রকাশ করেন গানে গানে।

 

তিনি প্রেমিক। তার হাতে থাকে ক্যামেলিয়া; তারায় তারায় রটিয়ে দিতে চান প্রিয় মানুষটির কথা।

 

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে তার গান, সেই গানের কথা। কখনও তিনি বলেন জেল থেকে, কখনও দেখান স্টেশন রোডের চিত্র। দুঃখিনীর কথা বলতে বলতে শোনান স্বপ্নচারিনী কবিতার কথাও। মা-বাবা কেউই বাদ যায়নি তার গান থেকে।

 

তিনি কারও কাছে গুরু, কারও কাছে নগর বাউল; তিনি জেমস, ফারুক মাহফুজ আনাম জেমস। আজ শনিবার তার জন্মদিন।

 

সারা দেশে অসংখ্য ভক্ত তার। তিনি এখন নতুন গান করেন না, কিন্তু যা রেখে গেছেন তাতেই এখনও তৈরি হয় নতুন প্রজন্মের শ্রোতার অনুভূতি, চেতনা। তাই জেমসের জন্মদিনে বরাবরই ভক্তদের বাড়তি উত্তেজনা থাকে।

 

বিগত বছরগুলোতে ভক্তদের সঙ্গে জন্মদিনের কেক কাটতেন তিনি, করতেন গল্প। কিন্তু করোনা সবকিছুই বদলে দিয়েছে। তারপরও জেমসের কাছে তার ভক্তরাই, শ্রোতারাই শ্রেষ্ঠ। তাদের উদ্দেশ করে জেমস গণমাধ্যমকে এক লাইনে বলেন, ‘যতদিন তোমরা আছ, ততদিন আমরা আছি।’

 

জন্মদিন উপলক্ষে এবার জেমসের সংস্পর্শে আসার সুযোগ নেই। করোনার কারণে জেমস নিজেও সামাগম এড়িয়ে যেতে চাইছেন বলে জানান তিনি।

 

জেমসের সহকারী রুবাইয়াৎ ঠাকুর রবিন বলেন, ‘বস বাসাতেই থাকবেন, হয়তো গানের প্র্যাকটিস করবেন।’

 

জন্মদিনে জেমসের কোনো আয়োজন না থাকলেও দেশজুড়ে জেমস ভক্তদের রয়েছে নানা আয়োজন। এর মধ্যে আছে দোয়া মাহফিল, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য খাবারের আয়োজন। ঢাকার পাশাপাশি খুলনা, যশোর, নরসিংদী, রংপুর, মেহেরপুর, কুড়িগ্রাম, ভোলা, পটুয়াখালীসহ বেশ কিছু জেলায় চলবে এ কার্যক্রম। মসজিদ ও মাদ্রাসায় হবে দোয়া। এসব কাজের উদ্যোগে রয়েছে জেমস ভক্তদের গ্রুপ ‘দুষ্টু ছেলের দল’।

 

আজ নগর বাউল খ্যাত মাহফুজ আনাম জেমস ৫৭ পেরিয়ে ৫৮ বছরে পা রাখলেন। মানে প্রতি বছরের ২ অক্টোবর এই শিল্পীর জন্মদিন। ১৯৬৪ সালের এদিনে নওগাঁ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তবে, বেড়ে ওঠেন চট্টগ্রামে।

 

জেমসের বাবা ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বাবার সঙ্গে গান নিয়ে অভিমান করে বাড়ি ছাড়েন জেমস। চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে থাকা শুরু করেন। সেখানে থেকেই তার সংগীত জীবনের শুরু।

 

১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ব্যান্ড ‘ফিলিংস’। জেমস ছিলেন সেই ব্যান্ডের প্রধান গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট। ১৯৮৭ সালে তার প্রথম অ্যালবাম ‘স্টেশন রোড’ প্রকাশিত হয়। ১৯৮৮ সালে ‘অনন্যা’ নামের অ্যালবাম প্রকাশ করে সুপারহিট হয়ে যান তিনি। এরপর ১৯৯০ সালে ‘জেল থেকে বলছি’, ১৯৯৬ সালে ‘নগর বাউল’, ১৯৯৮ সালে ‘লেইস ফিতা লেইস’ এবং ১৯৯৯ সালে ‘কালেকশন অফ ফিলিংস’ অ্যালবামগুলো ‘ফিলিংস’ থেকে বের করা হয়।

 

‘নগর বাউল’ ব্যান্ডের অ্যালবামগুলো হলো ‘দুষ্টু ছেলের দল’ ও ‘বিজলি’। জেমসের একক অ্যালবামগুলো হলো ‘অনন্যা’, ‘পালাবি কোথায়’, ‘দুঃখিনী দুঃখ করো না’, ‘ঠিক আছে বন্ধু’, ‘আমি তোমাদেরই লোক’, ‘জনতা এক্সপ্রেস’, ‘তুফান’ ও ‘কাল যমুনা’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *