নজর২৪, ঢাকা- ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক তিনি। সিনেমা ও শুটিং নিয়েই তার ব্যস্ততায় দিন কাটে। তবে তার বাইরে তিনি একজন আইনজীবীও। ইনকাম ট্যাক্স, ভ্যাট ও কোম্পানি আইন নিয়ে কাজ করেন নায়ক সিয়াম আহমেদ।
রাজধানীর স্কলাস্টিকা স্কুলের ক্যারিয়ার গাইডেন্স কাউন্সেলর ইভানা লায়লা চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন তার সহপাঠী ও শিক্ষার্থীরা। সেখানে যোগ দেন নায়ক সিয়ামও।
মানববন্ধন ও সমাবেশে যোগ দিয়ে সিয়াম বলেন, ‘আমরা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে তো পৃথিবীতে আসিনি। আল্লাহ আমাদের প্রেরণ করেছেন বলেই এসেছি। এই লাইফটা কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। জীবনে অনেক ছোটবড় ঘটনা ঘটে। আমার মনে হয় আমরা যদি শেয়ার করতে পারি আমাদের সহকর্মী ও বন্ধুদের সাথে, টিচারদের সাথে।
নিজের লাইফটা কেড়ে নেওয়া কোনো সলিউশন নয়, সলিউশন হচ্ছে মানুষের সাথে শেয়ার করা। ডিসপ্রেশনে ভুগলে প্রত্যেকটা বাবা মায়ের উচিত সন্তানের সাথে কথা বলা। আর যেন কোনো ইভানার এভাবে মৃত্য না হয়।’
ইভানার সহপাঠী, সহকর্মী ও শিক্ষকরা এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন। বিপুল সংখ্যক আইনজীবীও অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে নায়ক সিয়াম আহমেদও অংশ নেন।
এ সময় ইভানা লায়লা চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামীসহ অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান সিয়ামের সহপাঠী, সহকর্মী ও আইনজীবীরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্বামী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান রুম্মানসহ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই ইভানার মৃত্যর মূল রহস্য বের হয়ে আসবে।
উল্লেখ্য, ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পরীবাগ থেকে ইভানার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দুটি ভবনের মাঝখানে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে শাহবাগ থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা করেন ইভানার বাবা এএসএম আমান উল্লাহ চৌধুরী। এতে আসামি করা হয় ইভানার স্বামী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান রুম্মান ও ইমপালস হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক মুজিবুল হক মোল্লাকে।
ইভানা রাজধানীর পরীবাগে অবস্থিত ইংরেজি মাধ্যম স্কুল স্কলাস্টিকার ক্যারিয়ার গাইডেন্স কাউন্সিলর ছিলেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই ইভানাকে তার স্বামী রুম্মান শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। কিছু দিন আগে ইভানা জানতে পারেন, রুম্মান ব্যারিস্টার সানজানা ইয়াসিন খানের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত।
পরে ইভানা তার স্বামী রুম্মান ও সানজানার মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে প্রেমালাপের প্রমাণও পান এবং তার স্ক্রিনশর্ট নিয়ে বন্ধুদের মেসেঞ্জারে পাঠান। এ ছাড়া বেশ কিছু দিন ধরে রুম্মান ইভানাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়াচ্ছিল, যাতে রুম্মান নির্বিঘ্নে সানজানার সঙ্গে ফোনে প্রেমালাপ করতে পারে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
