নজর২৪, সিরাজগঞ্জ- সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন তিনটি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ও তোপের মুখে পড়ে মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে এসব পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে চাকরি থেকে বরখাস্তের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ওই শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দিচ্ছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছে।
যদিও খবরটি গুজব বলে নিশ্চিত করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন। তিনি বলেন, আমি কোনো অপরাধই করিনি। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কেন ছেড়ে দিব? আমি এমন কোনো ঘোষণা দেইনি।
ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন বলেন, যাদের আমি চুল কেটে দিয়েছি বলে বলা হচ্ছে আসলে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। আমি কারও চুল কেটে দেইনি। আমি একের পর এক ১৪ জন শিক্ষার্থীর চুল কেটে দিব, আর তারা তা নীরবে সহ্য করবে?
এগুলো আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা ষড়যন্ত্র কিনা আমি এগুলো নিয়ে কিছু বলতে চাই না। তবে আপনারা যাচাই-বাছাই করেন তাহলেই বুঝতে পারবেন।
ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় আমি মঙ্গলবার রাতে আমার দায়িত্বে থাকা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান, সহকারী প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য এই তিনটি পদ থেকেই পদত্যাগ করেছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ বলেন, গতকাল রাতে দায়িত্বে থাকা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ফারহানা ইয়াসমিন পদত্যাগ করলেও শিক্ষার্থীরা শিক্ষক পদ থেকে পদত্যাগ চাচ্ছে। তদন্তের পর অভিযোগ প্রমাণ হলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ ছাত্রের মাথার চুল কেটে দেওয়ার বিষয়টি বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করলে তা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী লজ্জায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে আ.ত্মহ.ত্যার চেষ্টা করেন বলেও জানা যায়।
