দেশ ছেড়ে পালাতে চেয়েছিলেন ইভ্যালির এমডি রাসেল

নজর২৪ ডেস্ক- ২০১৮ সালে পুরনো প্রতিষ্ঠান বিক্রির এক কোটি টাকা দিয়ে ইভ্যালির যাত্রা শুরু করেছিলেন মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিন। রাসেল প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও নাসরিন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। বলতে গেলে পারিবারিক প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির হর্তাকর্তা তারা দু’জনই ছিলেন। শুরু থেকেই ইভ্যালি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ছিল।

 

পণ্য পাওয়ার আশায় গ্রাহকের বিনিয়োগ করা টাকা দিয়েই ভাড়া করা অফিস, কর্মচারীদের বেতনসহ যাবতীয় সব খরচ চলতো। লাভ না হলেও দিনে দিনে খরচ ও দেনার পরিমাণ বাড়তে থাকে। নতুন গ্রাহকদের ওপর দায় চাপিয়ে পুরাতন গ্রাহকদের একটু একটু করে দেনা মেটানো হতো। বিশেষ বিশেষ দিবসকে সামনে রেখে বিভিন্ন লোভনীয় অফার দিয়ে গ্রাহকের দৃষ্টি কাড়া হতো।

 

ছাড়ের ছড়াছড়িতে অল্প সময়েই ৪৪ লাখের উপরে গ্রাহক হয়ে যায়। গ্রাহক যত বাড়ছিল দেনা তত বাড়ছিল। একসময় এক হাজার কোটি টাকা দেনা হয়ে যায়। রাসেল ও তার স্ত্রী লোকসান হচ্ছে এটি বুঝতে পেরেও ব্যবসা বন্ধ করেননি। কারণ হঠাৎ করে ব্যবসা বন্ধ করলে বিনিয়োগকারীরা ঝামেলার সৃষ্টি করবে। আর দ্বিতীয়ত- রাসেল চেয়েছিলেন এশিয়ার মধ্য তার প্রতিষ্ঠানটির একটা ব্যান্ডভ্যালু তৈরি হোক। যাতে করে ইভ্যালিকে সবাই একনামে চেনে।

 

এর মাধ্যমে তিনি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিনিয়োগ করাতে চেয়েছিলেন। এজন্য তিনি ঘন ঘন বিদেশে গিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। ইভ্যালিকে শেয়ার বাজারের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও ছিল। আর কোনো কিছু না হলে ইভ্যালিকে দেওলিয়া ঘোষণা করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চিন্তা করেছিলেন রাসেল। কিন্তু তাদের সব পরিকল্পনাই পণ্ড হয়েছে এক গ্রাহকের করা প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় র‌্যাব’র হাতে গ্রেপ্তারের পর।

 

গুলশান থানার করা মামলায় র‌্যাব বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে রাসেল ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে। র‌্যাব সদরদপ্তরের ওই রাতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে পরদিন তাদেরকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। পরে গুলশান থানা পুলিশ তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত তিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

জানা গেছে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল প্রতারণা করে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের দায় স্ত্রীর কাঁধে না দিয়ে তা নিজের কাঁধেই নিচ্ছেন। বর্তমানে রাজধানীর গুলশান থানা পুলিশ তার স্ত্রী শামীমা নাসরিন ও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। সেই সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।

 

সূত্র বলছে, দেশ ছেড়ে পালাতে চেয়েছিলেন রাসেল। কিন্তু গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকায় তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

 

এদিকে ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেল এবং প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আরও একটি মামলা করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে পণ্য সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. কামরুল ইসলাম চকদার বাদী হয়ে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় এ মামলাটি করেন।

 

মামলায় মো. রাসেল, শামীমা নাসরিনসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া বলেন, ব্যবসায়ী কামরুল ইসলামের মামলায় ইভ্যালির সিইও এবং চেয়ারম্যানকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ইভ্যালির ধানমন্ডি কার্যালয়ে তিনি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য সরবরাহ করেছেন। কিন্তু ইভ্যালি তার পাওনা টাকা পরিশোধ না করে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। কামরুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও মোট ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

মামলায় ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ছাড়াও ইভ্যালির ভাইস প্রেসিডেন্ট আকাশ, ম্যানেজার জাহেদুল ইসলাম হেময়, সিনিয়র অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার তানভীর আলম, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ কমার্শিয়াল জাওয়াদুল হক চৌধুরী, হেড অব অ্যাকাউন্টস সেলিম রেজা, অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার জুবায়ের আল মাহমুদ, অ্যাকাউন্টস শাখার কর্মকর্তা সোহেল, আকিবুর রহমান তূর্য, সিইও রাসেলের পিএস মো. রেজওয়ান, বাইক ডিপার্টমেন্টের সাকিব রহমানসহ ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *