নজর২৪ ডেস্ক- আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সিও মোহাম্মদ রাসেল জানালেন, যেসব সমস্যার কারণে পুরাতন অর্ডারগুলোর ডেলিভারি স্লো হয়ে গোছে। এরজন্য মিডিয়ার নেগেটিভ নিউজ, ইনভেস্টর না পাওয়া, সেলার ও গ্রাহকদের মাঝে আতঙ্ককে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
রাসেল বলেন, আমরা ৩৫০ কোটি টাকা কাস্টমারদেরকে কমমূল্যে প্রোডাক্ট দিতে গিয়ে লস করেছি। এই বিষয়টি যখন মিডিয়াতে ৩৫০ কোটি টাকার প্রতারণা হিসেবে নিউজ আসতে থাকে। তখন কাস্টমার, সেলার ও কর্মীদের মাঝে ভয় সৃষ্টি হওয়াটা স্বাভাবিক।
ইভ্যালির সিও বলেন, আমার এখানে ১০-১৫ হাজার সেলার ছিল। তারা আমাকে ক্রেডিট দিতো। কিন্তু সবার মাঝে ভয় কাজ করা শুরু করলে অনেকেই আমাদের সাথে কাজ বন্ধ করে দেয়। এছাড়া আমাদের সেলস কমে গেছে। কারণ গ্রাহকদের মাঝেও ভয় সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (০৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১১ টার দিকে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমান যে অবস্থা এই থেকে দ্রুত উত্তরণ করতে হলে অবশ্যই বিনিয়োগ লাগবে। এরজন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু তারা ভাবে ই-কমার্স বিজনেস অনেক চ্যালেঞ্জিং। তাই তারা আসতে চায়না। তারপরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
রাসেল বলেন, আমি আপনাদেরকে নেগেটিভ কমেন্টস করতে না বলি এই জন্য যে আপনারা দুই সপ্তাহ নেগেটিভ কমেন্টস করা থেকে বিরত থাকুন। দেখবেন অবস্থার অনেকটা পরিবর্তন হয়ে আসবে।
এই লাইভে মোহাম্মদ রাসেল বলেন, আমি আপনাদেরকে প্রোডাক্ট দিতে চাই। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি আপনাদের অর্ডারগুলো দিতে। গত ১৫ দিনে ২৭ হাজার। গত ৬ মাসে সাড়ে ৭ লাখ অর্ডার ডেলিভারি দিয়েছি।
তিনি বলেন, যেহেতু অনেকের অনেক অর্ডার পেন্ডিং। আল্টিমেটলি এসব অর্ডারের লাইবেলিটি আমার। বাকিরা হচ্ছেন সেলারেড।
মোহাম্মদ রাসেল বলেন, আমাকে জেলে দিলে কোন সমাধান নয়। আল্টিমেটলি আমাকে অর্ডার গুলো দিতে হবে। আপনারা একটু সময় দিন আমরা ডেলিভারি দিয়ে দিব।
ইভ্যালির দায় নিয়ে রাসেল বলেন, ইভ্যালির লস হতো এটা আমরাও জানতাম। কিন্তু আমাদের পরিকল্পনা ছিল এক প্রোডাক্টের লাভ দিয়ে আরেক প্রোডাক্টের লস মিটাবো। হয়তো সেটা পুরোপুরি আমরা করতে পারিনাই।
তিনি বলেন, আমরা কাস্টমার ও সেলারদেরকে নিয়ে আসার জন্য এই লস করেছি।
রাসেল আরও বলেন, পৃথিবীর সব দেশেরই প্রথম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কাস্টমারদের নিয়ে আসার জন্য বিভিন্ন ক্যাম্পেইন করতে হয়েছে। আমরাও তাই করছি।
তিনি বলেন, আমাদেরকে কপি করে অনেকেই ই-কমার্স বিজনেস শুরু করছে। যাদের উদ্দেশ্য হয়তো ভাল ছিলনা। যার কারণে অনেকে পালিয়ে যাচ্ছে।
ইভ্যালির সিও আরও বলেন, এটা আমাদের জন্য সত্যিই লজ্জাজনক যে, গ্রাহকদের টাকা নিয়ে বিদেশ পালিয়ে যেতে গিয়ে ধরা খাচ্ছে। এগুলোর সাথে ইভ্যালির নাম আসছে।
মোহাম্মদ রাসেল বলেন, “যারা ইতোমধ্যে অর্ডার করেছেন, তারা যদি প্রোডাক্ট না পান, তবে ক্ষতিগ্রস্তদের লায়াবিটিলি আমার একার। আগামী ৫ মাসে প্রয়োজনে আমার বাবার সবশেষ সম্পত্তিও বিক্রি করে দেবো, তাও আমি আছি, আপনাদের সঙ্গে।”
তিনি বলেছেন, “বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গেটওয়ে পদ্ধতি চালুর মতো চমৎকার একটি বুদ্ধি দিয়েছেন্। যেহেতু আমরা একে প্রোফিটিবিলিটি দিয়ে অ্যাডজাস্ট করতে চেয়েছিলাম, এজন্য আমরা নীতিমালা মেনেই টি-১০ শুরু করি। তবে এ সময় পণ্যের যোগানদাতাদের কাছ থেকে একধরনের চ্যালেঞ্জ আসা শুরু করল, মূল ব্যবসাতেও এর প্রভাব পড়ে। ফলে অর্ডার ডেলিভারির গতি কমে গেল।”
সরকার চাইলে ইভ্যালির বর্তমান অবস্থাকে “ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশন” বলে বন্ধ করে দিতে পারত, তবে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলে ডেলিভারিগুলো দিতে পারতেন না বলেও জানান তিনি।
এসময় বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “লাখো লাখো মানুষের অর্ডার আছে, এগুলো আমাকে দিতেই হবে। এছাড়া কোর্ট থেকেও অর্ডার আছে, দেশের বাইরে যেতে পারব না”
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি “ডিপ ডিসকাউন্ট” পদ্ধতি থেকে সরে গিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা ডিপ ডিসকাউন্ট থেকে সরে এসেছি। এরপরও প্রচুর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করতে চায়।
ই-কমার্স নিয়ে সমালোচনা অনেক হলেও এটির চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অনেকেরই ধারনা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন,
‘শুধু টাকা থাকলেই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান শুরু করা যায় না। যত টাকাই থাক ইভ্যালির মতো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান খোলার মতো সাহস অনেকেই করতে পারবে না। কারণ এখানে আপনি নির্দিষ্ট কোনো প্রডাক্ট নিয়ে ডিল করছেন না। এখানে আপনাকে হাজারো প্রডাক্ট নিয়ে লাখো গ্রাহকের সাথে একই সময়ে ডিল করতে হচ্ছে। এটি করার সাহস সবার হয় না।’
