বিনোদন ডেস্ক- মাদক মামলায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে যাবার পর আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির সদস্যপদ স্থগিত করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি।
৭ আগস্ট বিকেলে এফডিসিতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন সমিতির সভাপতি অভিনেতা মিশা সওদাগর।
তিনি বলেছিলেন, ‘কোনো শিল্পীর ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় শিল্পী সমিতি নেবে না। আমরা আপাতত তার সদস্যপদ স্থগিত করেছি।’
১ সেপ্টেম্বর কারামুক্ত হয়ে বনানীর বাসায় ফিরেছেন পরীমনি। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর পরীমনির সাময়িক স্থগিত থাকা শিল্পী সমিতির সদস্যপদের কী হবে, জানতে চাওয়া হয়েছিল সভাপতি মিশা সওদাগরের কাছে।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা কার্যনির্বাহী কমিটি যেভাবে সভা করে পরীমনির সদস্যপদ সাময়িক স্থগিত করেছিলাম, একইভাবে কার্যনির্বাহী কমিটি সভা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সমিতির পক্ষ থেকে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থন করার জন্য একটি চিঠি দিয়েছিলাম। সে চিঠির উত্তর পাইনি। তবে ওসব চিঠি ব্যাপার না, তিনি ভালোভাবে ফিরে আসুক এটাই আমাদের চাওয়া। তাছাড়া আমরা সেই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিলাম, তার শুটিং করতে কোনো বাধা নেই।’
ব্যক্তি মিশা সওদাগর পরীমনিকে ওয়েলকাম জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটা তো গেল সমিতির কথা। ব্যক্তিগতভাবে আমি পরীমনিকে স্বাগত জানাই, তার সুস্থতা কামন করি।’
কার্যনির্বাহী কমিটির সভা কবে হবে তা জানাতে পারেননি মিশা সওদাগর। তিনি বলেন, ‘জলদি এ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
এর আগে গত ৪ আগস্ট পরীমণি আটক ও পরদিন মাদক মামলায় গ্রেফতারের পর বেশ তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন করেছিল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। সেখানে পরীর সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
পরীর এই জামিনের পর তার সাময়িকভাবে স্থগিত সদস্যপদ কি ফিরে পাবে এখন? এমন প্রশ্নের উত্তরে সমিতির পক্ষ থেকে জানা গেছে সাংবিধানিক ব্যাখ্যা। সমিতির সংবিধান মতে, অভিযুক্ত শিল্পী নির্দোষ প্রমাণের আগে সদস্যপদ স্থগিতই থাকবে। যদি নির্দোষ প্রমাণ হয় তাহলে সদস্যপদ ফিরে পাবেন। আর দোষী সাব্যস্ত হলে সদস্যপদ স্থায়ীভাবে কাটা পড়বে।
এদিকে কারাগার থেকে বের হয়েই এক বার্তায় তোলপাড় করে দিয়েছেন নায়িকা পরীমণি। তার হাতের তালুতে মেহেদিতে লেখা ছিল, ‘ডোন্ট লাভ মি বিচ’।
কাদেরকে উদ্দেশ্য করে এই বাক্য লিখেছেন পরীমণি? গতকাল রাতে তিনি জানিয়েছেন, যারা তার সুসময়ে পাশে ছিল, কিন্তু দুঃসময়ে অচেনা হয়ে গিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্যেই এই বার্তা। পরীর ভাষ্য, ‘যারা দুমুখো সাপ, তাদের বলেছি, ডোন্ট লাভ মি বিচ।’
তারা কারা? তাদেরকে চিনতে পেরেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে পরীমণি বলেন, ‘অবশ্যই আমি তাদেরকে চিনে ফেলেছি। তাদের অন্তরে ভালোবাসা নেই। তারা মুখে মুখে বলে- লাভ ইউ। তাদের বলেছি, ভালোবাসা দরকার নেই। তারা যেদিন বিপদে পড়বে, বুঝবে। যাদের নিয়ে গলায় গলায় থাকা, একপ্লেটে খাওয়া কই তারা? আমি চলে এসেছি, তারা এখন আবার ওয়েলকাম বলছে। আমি চিনেছি কারা শত্রু, কারা মিত্র।’
কারাগারে থাকার সময়টাকে নিজের সবচেয়ে দীর্ঘ দুঃস্বপ্ন মনে করছেন পরীমণি। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে দুঃস্বপ্ন থেকে বের হলাম। আমার এই খারাপ স্বপ্নের মেয়াদ ছিল ২৭ দিন! এটা দীর্ঘ খারাপ স্বপ্ন। দুঃস্বপ্ন ভেবেই এটা রাখতে চাই। আমি কোনোভাবেই ভেঙে পড়তে চাই না। এই দুঃস্বপ্ন অল্পতে বলা যাবে না। তবে আমি পরে অবশ্যই বলব।’
দ্রুত কাজে ফেরার কথাও জানিয়েছেন পরীমণি। ধাক্কা সামলে ঠিকই ঘুরে দাঁড়াবেন, এমন আত্মবিশ্বাস তার হৃদয়ে। বললেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব শুটিংয়ে ফিরব। হাতে জমে থাকা কাজগুলোর ব্যাপারে দ্রুত পরিচালকদের সঙ্গে আলাপ করব। ক্যামেরার সামনে যত দ্রুত ফিরতে পারব, ততই শান্তি ফিরে পাব।’
