বিনোদন ডেস্ক- টানা ২৭ দিনের জেল খেটে অবশেষে জামিন মিললো পরীমণির। ১ সেপ্টেম্বর তিনি কাশিমপুর কারাগার থেকে বেরিয়েই বুঝি মুক্ত বাতাসে ডানা মেলে দেন। নামের সার্থকতা মেলে সেখানেই। অথচ অনেকেই ভেবেছেন, গ্রেফতারের আগমুহূর্তে পর্দার জন্য প্রস্তুত হওয়া বিপ্লবী ‘প্রীতিলতা’র বুঝি এখানেই ইতি।
জেল ফেরত এক নতজানু পরী অথবা প্রীতিলতার দেখা মিলবে। সব ধারণা ভুল প্রমাণ করলেন ঢাকাই সিনেমার এই বিপ্লবী। শুধু হুডখোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে হাত নাড়ানোই নয়, ঘরে ফিরেও পরীকে পাওয়া গেলো ভয়-ডরহীন।
বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে এক অনলাইন নিউজ পোর্টালের সঙ্গে একান্ত আলাপে পরীমণি বললেন, ‘আমার অনেক কিছু বলার আছে, সব বলে দেবো। বলার জন্য অস্থির হয়ে আছি।’
পরীর প্রতি প্রথম প্রশ্ন ছিল এমন, জেল থেকে এভাবে এই গেটআপে এতটা হাস্যোজ্জ্বল হয়ে ফেরার পরিকল্পনা কী ভেবে? কারণ, আটকের শুরু থেকে আদালতের এজলাস পর্যন্ত- আপনাকে দেখা গেছে ভেঙে পড়া কোনও এক…।
জবাবে পরী বলেন, ‘ভেঙে আমি একবারও পড়িনি। যেটা বলছেন সেটা ছিল ক্রোধ আর অসহায়ত্ব। আর জামিনের বিষয়টি আমার কাছে মুক্তির মতোই আনন্দ দিয়েছে। আমি জামিন পেয়ে হাতে মেহেদি লাগিয়েছি। গেট থেকে বেরিয়ে মুখ লুকাইনি। আমার আনন্দ বা বিজয়টাকে সবার সঙ্গে শেয়ার করে নিয়েছি। আমি হি হি করতে করতে, দাঁত কেলাতে কেলাতে জেল থেকে বের হয়েছি। তো আমি দাঁত কেলাবো না তো কে কেলাবে?
আমি চুরি-ডাকাতি বা মার্ডার করিনি। এখানে কোনও প্ল্যান বা উন্মাদনা ছিল না। আমার ভেতরে মুক্তির যে আনন্দটা কাজ করেছে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ফলে হুট করে আমাকে কোনও কিছু চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। আমি পর্দায় অভিনয় করি, জীবনের সঙ্গে নয়।’
পরী আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন আমি কেমন মুক্ত মানুষ। আমি নিজেকে পাখির মতো মুক্ত ভেবেছি আজীবন। একমাত্র নানুভাই ছাড়া আমার আর কোনও পিছুটান নেই। তাই জামিন পাওয়ার পর আমি ২৭ দিনের দুঃখ, অপমান ক্ষণিকের জন্য ভুলে যাই। আকাশে উড়তে থাকলাম কাশিমপুর থেকে বনানী পর্যন্ত।’
পরী জানান, ২৭ দিনের জেল জীবনে তিনি এক ঘণ্টাও ঠিকমতো ঘুমাননি। বলেন, ‘আমি গত ২৭ দিন ঘুমাইনি। জাস্ট কাশিমপুর থেকে বেরিয়ে এক দেড়ঘণ্টা ঘুমিয়েছি গাড়িতে। মাথাও ঠিকমতো কাজ করছিল না। বাট জেল থেকে বেরিয়ে এই মুক্ত জীবন আর মানুষের উন্মাদনায় আমি সব ক্লান্তি ভুলে যাই। সত্যিই আমি আমার পাখির জীবনটা ফিরে পেয়েছি কাশিমপুর টু বনানীর পথে।’
গত ৪ আগস্ট পরীমনিকে তার বনানীর বাসা থেকে মাদকদ্রব্যসহ আটক করে র্যাবের একটি দল। পরের দিন এই অভিনেত্রীকে গ্রেপ্তারের কারণ জানানোর পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে একটি মামলা করে বাহিনীটি। এই মামলায় তিন দফায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে গাজীপুরে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয় পরীমনিকে।
এই মামলায় পরীমনিকে মঙ্গলবার জামিন দেয় আদালত। জামিন আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছানোর পর বুধবার সকালে মুক্তি মেলে তার। কারাগার থেকে বের হয়েই ভক্তদের উদ্দেশে হাত নাড়েন পরীমনি। এ সময় তার হাতে দেখা যায় মেহেদি রাঙানো ‘ডোন্ট লাভ মি বিচ’ লেখা।
সংবাদমাধ্যমকে এ লেখার কারণও জানালেন পরীমনি। বলেন, ‘‘আমি চিনতে পেরেছি কারা আমার শত্রু, কারা মিত্র। যারা দুমুখো সাপ তাদের বলেছি ‘ডোন্ট লাভ মি বিচ’।”
তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই আমি তাদের চিনেছি। তারা যেদিন বিপদে পড়বে বুঝবে। যাদের নিয়ে গলায় গলায় থাকা, এক প্লেটে খাওয়া, কই তারা? আমি চলে এসেছি। তারা এখন আবার ওয়েলকাম বলছে।’
পরীমনি জানান, ২৭টি দিন ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। তবে সবকিছু কাটিয়ে দ্রুতই কাজে ফিরতে চান তিনি।
