বিনোদন ডেস্ক- টানা ২৭ দিন থানা-কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। বুধবার সকাল ৯টা ৩৬ মিনিট গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন এই নায়িকা।
তাকে দেখতে জেলগেট হয়ে বনানীর বাসার ফটকে ভিড় করেন শত শত ভক্ত ও মিডিয়াকর্মী। তবে তাদের মধ্যে ছিল না চলচ্চিত্র শিল্পীদের ‘কল্যাণে’ কাজ করা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কেউই।
‘শিল্পীর পাশে আছি’ কথাটি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বারবার বললেও এদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তার দেখা মেলেনি কোথাও। জানা গেছে, সমিতির অফিসেও যাননি তিনি।
বুধবার সকাল ৯টা ২১ মিনিটে ছাড়া পান পরীমণি। ২৫ মিনিট পর কারাফটক ত্যাগ করেন। সঙ্গে ছিলেন তার খালু ও আইনজীবী। বেলা ১টার দিকে বনানীর বাসায় পৌঁছান এই চিত্রতারকা। সেখানেও গণমাধ্যমের প্রচুর কর্মী থাকলেও দেখা মেলেনি সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর বা সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের।
বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে জায়েদ খান বলেন, ‘আমার মা হাসপাতালে ভর্তি, তাই ইচ্ছা থাকলেও যেতে পারিনি। সভাপতি মিশা ভাই শুটিং করছেন ঢাকার বাইরে। তবে পরীমণি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ায় একজন শিল্পী হিসেবে আমি স্বস্তি প্রকাশ করছি।’
জানা যায়, শাহীন সুমনের ‘মাফিয়া’ ছবির শুটিংয়ে ধামরাইয়ে আছেন মিশা সওদাগর।
এর আগে গত ৪ আগস্ট পরীমণি আটক ও পরদিন মাদক মামলায় গ্রেফতারের পর বেশ তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন করেছিল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। সেখানে পরীর সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
পরীর এই জামিনের পর তার সাময়িকভাবে স্থগিত সদস্যপদ কি ফিরে পাবে এখন? এমন প্রশ্নের উত্তরে সমিতির পক্ষ থেকে জানা গেছে সাংবিধানিক ব্যাখ্যা। সমিতির সংবিধান মতে, অভিযুক্ত শিল্পী নির্দোষ প্রমাণের আগে সদস্যপদ স্থগিতই থাকবে। যদি নির্দোষ প্রমাণ হয় তাহলে সদস্যপদ ফিরে পাবেন। আর দোষী সাব্যস্ত হলে সদস্যপদ স্থায়ীভাবে কাটা পড়বে।
এদিকে কারাগার থেকে বের হয়েই এক বার্তায় তোলপাড় করে দিয়েছেন নায়িকা পরীমণি। তার হাতের তালুতে মেহেদিতে লেখা ছিল, ‘ডোন্ট লাভ মি বিচ’।
কাদেরকে উদ্দেশ্য করে এই বাক্য লিখেছেন পরীমণি? গতকাল রাতে তিনি জানিয়েছেন, যারা তার সুসময়ে পাশে ছিল, কিন্তু দুঃসময়ে অচেনা হয়ে গিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্যেই এই বার্তা। পরীর ভাষ্য, ‘যারা দুমুখো সাপ, তাদের বলেছি, ডোন্ট লাভ মি মিচ।’
তারা কারা? তাদেরকে চিনতে পেরেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে পরীমণি বলেন, ‘অবশ্যই আমি তাদেরকে চিনে ফেলেছি। তাদের অন্তরে ভালোবাসা নেই। তারা মুখে মুখে বলে- লাভ ইউ। তাদের বলেছি, ভালোবাসা দরকার নেই। তারা যেদিন বিপদে পড়বে, বুঝবে। যাদের নিয়ে গলায় গলায় থাকা, একপ্লেটে খাওয়া কই তারা? আমি চলে এসেছি, তারা এখন আবার ওয়েলকাম বলছে। আমি চিনেছি কারা শত্রু, কারা মিত্র।’
কারাগারে থাকার সময়টাকে নিজের সবচেয়ে দীর্ঘ দুঃস্বপ্ন মনে করছেন পরীমণি। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে দুঃস্বপ্ন থেকে বের হলাম। আমার এই খারাপ স্বপ্নের মেয়াদ ছিল ২৭ দিন! এটা দীর্ঘ খারাপ স্বপ্ন। দুঃস্বপ্ন ভেবেই এটা রাখতে চাই। আমি কোনোভাবেই ভেঙে পড়তে চাই না। এই দুঃস্বপ্ন অল্পতে বলা যাবে না। তবে আমি পরে অবশ্যই বলব।’
গ্রেফতার হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় পরীমণিকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। অনেকেই তাকে গালিগালাজ করেছেন, খারাপ মন্তব্য করেছেন। ওই বিষয়ে পরীমণি বলেন, ‘যারা ব্যক্তিগতভাবে আমাকে চেনে না, তাদের গালি আমার গায়ে লাগবে না। রাস্তার কেউ আমাকে অপদস্ত করলে আমি অপদস্ত হয়ে যাব না। কিন্তু যারা আমাকে চিনেও গালি দিয়েছে তাদের গালি গায়ে লেগেছে।’
দ্রুত কাজে ফেরার কথাও জানিয়েছেন পরীমণি। ধাক্কা সামলে ঠিকই ঘুরে দাঁড়াবেন, এমন আত্মবিশ্বাস তার হৃদয়ে। বললেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব শুটিংয়ে ফিরব। হাতে জমে থাকা কাজগুলোর ব্যাপারে দ্রুত পরিচালকদের সঙ্গে আলাপ করব। ক্যামেরার সামনে যত দ্রুত ফিরতে পারব, ততই শান্তি ফিরে পাব।’
