বিনোদন ডেস্ক- ২৭ দিন কারাভোগের পর আজ (১ সেপ্টেম্বর) জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ঢালিউডের শীর্ষ চিত্রনায়িকা পরীমণি। এ খবরে তার শুভাকাঙ্খীদের মনে খুশির জোয়ার। তিনি নিজেও উচ্ছ্বসিত। বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর সোজা ফিরে আসেন নিজের বনানীর বাসায়।
এদিকে পরীমণি মুক্তি পাওয়ায় আনন্দিত আর শুভাকাঙ্খী ও ঢালিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা-নির্মাতা কাজী হায়াত। তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি পরী গ্রেফতার হওয়ার পর তার সমর্থনে আওয়াজ তুলেছিলেন। এবার কাজী হায়াত কিছু পরামর্শ দিলেন পরীমণিকে।
গণমাধ্যমের কাছে তিনি বলেন, ‘পরীমণিকে এখন দেখে-শুনে পথ চলতে হবে। আমাদের দেশ তো পুরুষশাসিত। তাই অনুরোধ, দেখে-শুনে যেন চলাফেরা করে। জীবনে অনেক সময় আছে। এখনো অনেক দেখার বিষয় আছে। দেখে শুনে যদি চলতে পারে, তাহলে ওর ভবিষ্যৎ অনেক ভালো। তার আশপাশের মানুষকে চিনতে হবে। কারা তার প্রিয়জন, আর কারা শুধুই প্রয়োজন।’
ইন্ডাস্ট্রির অন্যদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে কাজী হায়াত বলেছেন, ‘সবার প্রতি আমার অনুরোধ- যারা তাকে নিয়ে কাজ করবে, তারা যেন ওকে সঠিকভাবে গাইডও করে। আর কেউ যেন তাকে মিসগাইড না করে। আমি তো আগে চিনতাম না, গ্রেপ্তারের পর চারদিক থেকে যতটা শুনেছি- মেয়েটি এমনিতে ভালো, শিল্পমনা। আমি এমনও শুনেছি, মেয়েটি প্রচণ্ড হৃদয়বান। আমাদের দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে এমন হৃদয়বান মেয়ে আগে আসেনি। মেয়েটি খুব দানশীল। আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে শুধু বলতে চাই, পরীমণিকে সঠিক গাইডেন্স দিয়ে ধরে রাখতে পারলে চলচ্চিত্রও উপকৃত হবে, পরীমণির জীবনও ভালো হবে। ওর মধ্যে শিল্পীসত্ত্বা আছে। শিল্পীসত্ত্বাকে বাঁচিয়ে রেখে গাইড করলে পরীমণিও ভালো করবে।’
উল্লেখ্য, আজ (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ২১ মিনিটে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর কাছে পরীকে হস্তান্তর করে কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ ।
মাদক মামলায় ২৭ দিন পর জামিন পেলেন এই শীর্ষ নায়িকা। পরীমণিকে নিতে কারাফটকে উপস্থিত ছিলেন তার খালু মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। পরে সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে গাড়িতে পরীমণিকে নিয়ে কারাফটক ত্যাগ করেন তারা।
এর আগে মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে পরীমণির জামিনের আদেশ দেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ। নারী, অভিনেত্রী ও অসুস্থতা বিবেচনায় ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় তিনি পরীমণির জামিন মঞ্জুর করেন।
প্রসঙ্গত, গত ৪ আগস্ট রাতে রাজধানীর বনানীর বাসায় প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে পরীমণি ও তার সহযোগীকে আটক করে র্যাব। তার বাসা থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয় বলে জানানো হয়। আটকের পর তাদের নেওয়া হয় র্যাব সদর দফতরে। পরে র্যাব-১ বাদী হয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে পরীমণির বিরুদ্ধে মামলা করে।
