নজর২৪, গাজীপুর- মাদক মামলায় গ্রেফতার চিত্রনায়িকা পরীমণি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার (০১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মুক্তি পান।
কারা ফটক থেকে একটি সাদা গাড়িতে করে বের হতে দেখা যায় পরীমণিকে। পরীমণি সাদা পোশাকে ছিলেন এবং তাকে বহনকারী গাড়ি থেকে একটু বের হয়ে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে সেলফি তুলতে দেখা যায়।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় পরীমণির খালু জসিম উদ্দিনসহ কয়েকজন নিকটাত্মীয় ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী কারা ফটকে যান।
এ সময় তার আইনজীবী বলেন, আদালত দুই পক্ষের আইনজীবীর শুনানির পর তাকে জামিন দেয়। তবে কাশিমপুর কারাগারে জামিনের কাগজপত্র না আসায় গতকাল তাকে মুক্তি দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ।
এর আগে মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে পরীমণির জামিনের আদেশ দেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ। নারী, অভিনেত্রী ও অসুস্থতা বিবেচনায় ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় তিনি পরীমণির জামিন মঞ্জুর করেন। কিন্তু গতকাল তার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে না পৌঁছায় মুক্তি দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ।
এদিন পরীমণির পক্ষে জামিন শুনানি করেন তার আইনজীবী মজিবুর রহমান, নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী, কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ অনেকে। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিনের আদেশ দেন।
তারও আগে গত ২২ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে পরীমনির জামিন আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী মজিবুর রহমান। তখন আদালত শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন। পরে তার আইনজীবীরা এ নিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। এরপর জামিন শুনানির দিন এগিয়ে ৩১ আগস্ট ধার্য করা হয়।।
গত ৪ আগস্ট সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে তার বনানীর বাসা থেকে মাদকসহ আটক করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ওই দিনই রাত ৮টা ১০ মিনিটে পরীমনিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে র্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত ১২টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে র্যাব।
পরদিন ৫ আগস্ট বিকেল ৫টায় পরীমনিকে বনানী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর র্যাব বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় পরীমনি ও তার সহযোগী দীপুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে।
এরপর তাকে আদালতে হাজির করলে প্রথমে চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে আরও দুই দফায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।
