নজর২৪, ঢাকা- ঢাকাই ছবির আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণির জামিন আবেদনের ওপর আজ মঙ্গলবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। গত রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েস এ দিন ধার্য করেন।
২২ আগস্ট পরীমণির আইনজীবী মজিবুর রহমান আদালতে জামিনের আবেদন করেন। আদালত শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।
এত দীর্ঘ সময় পর শুনানির তারিখ ধার্য করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পরীমণির আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন গত বৃহস্পতিবার। হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করেন এবং কেন দুই দিনের মধ্যে জামিন শুনানির আদেশ দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চান রুলে। ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল শুনানির জন্য তারিখ ধার্য করেন।
এই রুল জারি করার পর মহানগর দায়রা আদালত শুনানি এগিয়ে ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করেন। আদালতের অতিরিক্ত পিপি তাপস কুমার পাল বলেন, আদালত নিজ উদ্যোগে শুনানি এগিয়ে এনেছেন। পরীমণির আইনজীবীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, এদিন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে পরীমনির জামিনের জন্য লড়বেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান, নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী ও কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ আরও অনেকে।
আরও পড়ুন-
অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে পরীমণির পাশে দাঁড়ালো পরিচালক সমিতি
বিনোদন ডেস্ক- নিজ সংগঠন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি পাশে না দাঁড়ালেও চিত্রনায়িকা পরীমণির জন্য বিবৃতি দিয়েছে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। আজ (৩০ আগস্ট) সংগঠনটির প্যাডে পাঠানো এ চিঠিতে নায়িকার মুক্তি দাবি করে তারা।
সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান স্বাক্ষরিত এ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি কোনো ঘটনার সত্য মিথ্যা না জেনে তৎক্ষনাৎ মন্তব্য থেকে বিরত থাকে এবং পরীমনির ঘটনার সত্য মিথ্যা জানার কোনো উপায় আমাদের ছিল না।
চেষ্টা করা সত্ত্বেও পরীমনির সঙ্গে যোগাযোগ করার কোনো সুযোগ পাওয়া যায়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে প্রসঙ্গে পরিমনীকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে সেই সম্পর্কে শতভাগ আমরা নিশ্চিত নই।
‘আর এই পরীমনি বড় শিল্পী হওয়ায় তার ঘটনা নিয়ে এত দ্রুত সত্য মিথ্যা খুঁজে বের করার চেষ্টা করা দুরূহ ব্যাপার ছিল এবং সেই প্রসঙ্গে যারা তৎক্ষনাৎ বিবৃতি দিয়েছেন তা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ বিপক্ষ তৈরি হয়ে ঘটনাকে এমন একটা সংঘাতময় রূপ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে যে, যার থেকে আসল ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়া যায়নি।’
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা সমিতিগতভাবে পরিষ্কার জানাতে চাই পরীমনি আমাদের একজন প্রিয় শিল্পী। পরীমনির গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করা হয়েছে।
জামিন পেলে পরীমনি পালিয়ে যাবে বলে একজন উকিল পত্রিকায় প্রকাশিত যে উক্তি করেছেন তা ঠিক না বলে আমরা মনে করি। পরীমনি কোনো খু-নের বা বিরাট কোনো ঘটনার আসামি নয়, যে পালিয়ে যাবে। পরীমনি আমাদের দেশের একজন জনপ্রিয় শিল্পী।
পরীমনির জামিন পাওয়ার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে পরিচালক সমিতি বলছে, ‘বহুল প্রচারিত একটি বাক্য- শত অপরাধী খালাশ হতে পারে কিন্তু একজন নিরাপরাধী যেন শাস্তি না পায়। সুতরাং আমরা মনে করি ন্যায় বিচারের স্বার্থে পরীমনিকে অবিলম্বে জামিন দিয়ে সত্য মিথ্যা প্রমাণ করার সুযোগ দেয়া হোক এবং পরীমনির প্রতি যথাযথ সুবিচার করা হোক।’
পরীমনিকে তার বনানীর বাসা থেকে গত ৪ আগস্ট মা-দ-কদ্রব্যসহ আটক করে র্যাবের একটি দল। পরের দিন তাকে আটকের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। ওই দিনই বনানী থানায় এই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মা-দ-কদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করে বাহিনীটি।
এই মামলায় পরীমনিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হলে চার দিনের রিমা-ন্ডে পাঠান বিচারক। গত ১০ আগস্ট সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই অভিনেত্রীকে আরও দুই দিনের রিমা-ন্ড আদেশ দেয় আদালত। সেই রিমা-ন্ড শেষে তাকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তৃতীয় দফায় ১ দিনের জন্য রিমা-ন্ড দেয়া হয় পরীমনিকে।
