নজর২৪, বরিশাল- নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বরিশালে ইউএনওর বাসায় হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ। এ সময় মামলার নামে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের হয়রানি না করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
আজ শনিবার (২১ আগস্ট) বরিশাল নগরীর কালিবাড়ি রোডের নিজ বাস ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় মেয়র বলেন, আমি পরিচিত মানুষ। আমার চেহারা সারা বাংলাদেশের মানুষ চেনেন। আমি তো আর পালিয়ে যাব না। আমাকে বললে আমি নিজেই থানায় হাজির হয়ে যাব। আমি দোষী হলে প্রয়োজনে দলের পদ ছেড়ে দেব তবুও দলের কোনো ক্ষতি হতে দেব না।
মেয়র সাদিক বলেন, সত্য আপনি দাবায়ে রাখতে পারবেন না। সত্য উদঘাটিত হবে। আমি যদি অন্যায় করে থাকি তাহলে আমার এই চেয়ারে থাকার অধিকার নেই।
মেয়র বলেন, ‘আগস্ট মাসে কোনো বিশৃঙ্খলা হোক এটা আমরা চাই না। এই মাসে আমরা পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছি। করলে অনেক কিছুই হতো। কিন্তু আমরা কার বিরুদ্ধে করব? যেটাই হবে সেটা আমার দলের বিরুদ্ধে যাবে, নেত্রীর বিরুদ্ধে যাবে। আমি প্রয়োজনে এখান থেকে চলে যাব; আমি দলের ক্ষতি চাই না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত। আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাচ্ছি, পুরো ভিডিও দেখতে চাই। তা দেখে আমি যদি অপরাধী হয়ে থাকি, আমার দলের নেতাকর্মীরা যদি অপরাধী হয়ে থাকে তাহলে আমাদেরও বিচার হবে। অন্যায় যদি আমার হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই আমার বিচার হবে।’
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘সব সময় সিটি করপোরেশনের কর্মীরা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় কিন্তু অন্তত এবার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা আমার পক্ষে দাঁড়িয়েছে। আমি জানি না বরিশালের জনগণের মন জয় করতে পেরেছি কি না কিন্তু পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মন জয় করতে পেরেছি।
‘সাধারণ জনগণ যেন দুভোর্গের শিকার না হয় এটা আমার অনুরোধ। বরিশালের জনগণ কোনো অপরাধ করে নাই, ময়লা যদি পরিষ্কার করা না হয় তাহলে জনগণ দুভোর্গের মধ্যে পড়বে। আমার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ থাকবে আপনারা পরিচ্ছন্নতার কাজটি চালিয়ে যাবেন।’
তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজাখুঁজি না করার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান। বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের যারা কর্মকর্তা-কর্মচারি আছেন তাদের আপনারা বাধাগ্রস্ত করবেন না। তাহলে নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘ষড়যন্ত্রের কথা আমি বারবার বলে আসছি, এ ঘটনার মাধমে তা প্রমাণ হলো।
‘ব্যানার তো আমার দলের, এটা দলীয় বিষয়। এটাতে তো ইউওনও বাধা দিতে পারেন না, তিনি তো সরকারি চাকরি করেন। দলীয় ব্যানার লাগানোর দায়দায়িত্ব আমাদের, খোলার দায়দায়িত্বও আমাদের।’
নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে গ্রেপ্তার করতে আমার বাসা ঘেরাও করতে হবে না। আমাকে বললে আমিই থানায় যাব।
