নজর২৪ ডেস্ক- মাদক মামলায় আটক হয়ে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। এ কদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে তার পক্ষে আওয়াজ তুললেও নায়িকার মুক্তির দাবিতে পথে নামেনি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট কোনো সংগঠন। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে দেখা মিলল সেই চিত্র।
নয়া পল্টনে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন গুটি কয়েক মানুষ। না, পরিচিত কোনো মুখ নয়। মিডিয়ার সঙ্গেও তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তবু পরীমনির মুক্তির দাবিতে ব্যানার হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কিন্তু কারা ওরা? কেনই বা তারা পরীমনির মুক্তির দাবিতে রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন?
জানা গেছে, এই মানববন্ধনের নেতৃত্বে রয়েছেন অখ্যাত ও স্বঘোষিত এক কবি, নাম জগদীশ বড়ুয়া পার্থ। নিজের পরিচয় দিয়ে ব্যানারে তিনি লিখেছেন, এই সেই কবি জগদীশ বড়ুয়া পার্থ, ২০১৮ সালে ঢাকা-৮ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।
এর উপরে লেখা রয়েছে একটি স্লোগান। সেটি হলো, ‘সাগর পাড়ের মানুষ আমি, বিশাল আমার মন। এই মুক্তির আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বে সোনার বাংলার জনগণ।’
ব্যানারে লেখা বক্তব্য হলো, ‘অন্ধকারে ওরা কারা, পরীমনি সবার সেরা।’ ‘বড় ফাদার ও বড় মাদারদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করুন।’ ‘বাংলার মাটিতে লক্ষ লক্ষ নারী নির্যাতিন ভিকটিম আছে, এরা এখনো সুবিচার পাচ্ছেন না? উক্তিটি শামসুন্নাহার স্মৃতির।’ ‘১৯৯৬ সালে সবার প্রিয় নায়ক সালমান শাহর হত্যাকারীকে এইবার খুঁজে বের করতে হবে।’ ‘বর্তমানে আমি কবি জগদীশ বড়ুয়া পার্থর কোনো মামলা নাই। আজ থেকে আমার উপরে হামলা ও মামলা আসতে পারে।’
ব্যানারের একেবারে উপরে লেখা, ‘জগতের সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনায় আমরাই অগ্রদূত’। তার নিচে লেখা, অবিলম্বে পরীমনির মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন। একেবারে নিচে লেখা, ‘বাংলা প্রশাসনকে আগাম বলে রাখলাম।’ যোগাযোগের জন্য এর পাশেই নিজের ফোন নম্বর দিয়েছেন জগদীশ বড়ুয়া পার্থ নামে ওই ব্যক্তি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই মানববন্ধন জমাতে পারেননি এই অখ্যাত কবি। প্রেসক্লাবের আশেপাশের মানুষের মাঝে সাড়া ফেলতে না পারায় মাত্র তিনজন লোক ব্যানার হাতে মিনিট পনের দাঁড়িয়ে থেকে তারা সেখান থেকে চলে যান।
প্রসঙ্গত, আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনি গত ৪ আগস্ট রাজধানী বনানীর বাসা থেকে মাদকসহ র্যারের হাতে গ্রেপ্তার হন। পরে তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে আইনে মামলা করা হয়। এরপর প্রথমে চারদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় পরীমনিকে। এই রিমান্ড শেষে আবার দুই দিনের রিমান্ডে আছেন তিনি।
