ধর্ষণ নিয়ে বক্তব্য পাল্টালেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- একমাস আগে এক সক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নারীদের ধর্ষণের শিকারের জন্য তাদের পোশাক ও আচরণ দায়ি এমন মন্তব্য করেন। তার এমন মন্তব্যের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমনকি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইমরান খানের কথার তীব্র সমালোচনা করে।

 

এক মাস পর এসে বক্তব্য পাল্টেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। ধর্ষণ নিয়ে এমন বোকার মতো কথা তিনি বলেননি বলে সাফাই গেয়েছেন। এমনকি তার বলা কথাকে ভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, কোনো নারী যদি ধর্ষণ বা যৌন সহিংসতার শিকার হন, সেক্ষেত্রে ওই ঘটনার দায় সম্পূর্ণ ধর্ষক বা নিপীড়ক পুরুষের।

 

ধর্ষণ কিংবা যৌন সহিংসতার শিকার নারীর কোনো দায় এক্ষেত্রে নেই বলে দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

 

যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল পিবিএস নিউজ আওয়ারকে মঙ্গলবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ক এক প্রশ্নের উত্তরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা ব্যাপার পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন, আর তা হলো- ধর্ষণ বা নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা বিষয়ক যে কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি ওই অপরাধ করেছে- একমাত্র এবং একমাত্র সেই দায়ী।’

 

‘নারীর পোশাককে এ জন্য কোনোভাবেই দায়ী করা যাবে না। ধর্ষণ বা যে কোনো প্রকার যৌন সহিংসতার জন্য দায়ী কিংবা অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হবে ধর্ষক। ধর্ষণ-সহিংসতার শিকার নারী কোনোভাবেই এজন্য দায়ী নন।’

 

গত এপ্রিলে পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে ইমরান খান বলেছিলেন, নারীদের অশ্লীল পোশাকের কারণেই পাকিস্তানে যৌন সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে— বিশেষ করে শিশুদের বিরুদ্ধে।

 

এই মন্তব্যের জেরে দেশজুড়ে শুরু হওয়া সমালোচনার মধ্যেই গত জুন মাসে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবারও বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

 

অ্যাক্সিওসের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘একজন নারী যদি খুবই স্বল্প বসন পরেন, তাহলে এটি পুরুষদের ওপর প্রভাব ফেলবে; যদি তারা রোবট না হন। এটি সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানের ব্যাপার।’

 

তবে মঙ্গলবারের সাক্ষাতকারে পিবিএস নিউজ আওয়ারকে ইমরান খান বলেন, তার মন্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার নারীদের এ ঘটনার জন্য দায় রয়েছে— এটি খুবই ভ্রান্ত ও নির্বোধ একটি ধারণা। এমন ধারণা প্রকাশ করা তো দূরের কথা, চিন্তা করাও আমার পক্ষে কঠিন।’

 

‘তারা (অ্যাক্সিওস) আমাকে প্রশ্ন করেছিল— পাকিস্তানের সমাজ ব্যবস্থা ও নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়ে। তখন কথা প্রসঙ্গে আমি সেসব কথা বলেছিলাম।’

 

‘কিন্তু পরে যেভাবে এটি সামনে এলো— তাতে আমি হতবাক হয়েছি। আমি অবাক হয়েছি এই ভেবে যে, কীভাবে এমন একটি নির্বোধ মন্তব্য আমার নামে প্রকাশিত হলো!’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *