নজর২৪ ডেস্ক- করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশজুড়ে চলছে কঠোর বিধিনিষেধ। এই বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে পুলিশের পাশাপাশি এবার মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী, বিজিবি। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রতিদিনই পথে ঘাটে চলছে ধরপাকড়। তারপরও বাড়ছে কোভিড-১৯ আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। মৃত্যুতে রেকর্ড হচ্ছে প্রায় দিনই।
এমন পরিস্থিতিতেও ঈদুল আজহা সামনে রেখে বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকানপাট, চলবে গণপরিবহন। ২২ জুলাইয়ের পর থেকে ফের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।
সরকার বলছে, জীবনের পাশাপাশি জীবিকার ভেবে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আসন্ন কোরবানির ঈদ কেন্দ্র করে গরু ব্যবসায়ী, দোকান মালিকসহ সবার জীবন ও জীবিকার কথা ভেবে যা করা প্রয়োজন, তা বিবেচনা করেই সরকার বিধিনিষেধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিধিনিষেধ শিথিল করলে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। আক্রান্তের পাশাপাশি আরও বাড়বে মৃত্যুর মিছিল। পরিস্থিতি একেবারেই লাগামছাড়া হয়ে যেতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও রাজধানীর হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ডা. লেলিন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, বিশ্বে লকডাউন যাকে বলে, বাংলাদেশে তা কখনোই কার্যকর হয়নি। অসম্পূর্ণ বা আংশিক বিধিনিষেধ দিয়ে সংক্রমণের ধারা কমানো যায়নি কোথাও, যাবেও না। তারপরও যতটুকু বিধিনিষেধ আছে, সেটিও যদি শিথিল করা হয়, সংক্রমণের হার আরও বেড়ে যাবে। এর সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে মৃত্যুর সংখ্যাও।
তিনি বলেন, হাসপাতাল এর মধ্যেই পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। তখন হাসপাতালে জায়গা থাকবে না। তখন রাস্তায় পড়ে মানুষের মরে যাওয়ার পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। কিন্তু এমনিতেই আমরা বিজ্ঞানসম্মত বিধিনিষেধ দেইনি, যতটুকু দিয়েছি সেটিও কার্যকর করতে পারিনি। এখন বরং সময় বিজ্ঞানসম্মত প্রকৃত লকডাউন দেওয়ার। এর বদলে বিধিনিষেধ শিথিল করলে একটি নারকীয় অবস্থা তৈরির আশঙ্কা দেখা দেবে।
চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনা থেকে মুক্তি পেতে মাস্ক ব্যবহারের বিকল্প নেই। মাস্ক পরতেই হবে। মাস্ক পরা থাকলে সংক্রমণ কম হবে। তবে গরুর হাটে যাওয়া যাবে না। অনলাইনে গরু কেনাকাটা করতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে সবাইকে। কোরবানি দেওয়ার জন্য জড়ো হওয়া যাবে না। আমার মনে হয়, আরও সাত দিন আমরা যদি নিজেদের ঘরবন্দি করে রাখতে পারি, তাহলে হয়তো সংক্রমণ কমে আসবে।
এ প্রসঙ্গে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ডা. এম ইকবাল আর্সলান সারাবাংলাকে বলেন, ১২ দিন হলো কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। এর মধ্যে মৃত্যু কিংবা সংক্রমণ কোনোটিই কমানো যায়নি। তারপরও যদি বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়, তাহলে এখন যে বিধিনিষেধ চলছে তার সুফলও পাওয়া যাবে না। এই যে ১৪ দিনের বিধিনিষেধের পর ঈদ সামনে রেখে বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে, এই কয়েকদিনে যে সংক্রমণ ছড়াবে তা পরে আবার কঠোর বিধিনিষেধ দিয়ে মোকাবিলা করা যাবে না।
এদিকে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলা কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি সভাপতি মোহাম্মদ সহিদুল্লা। তিনি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত কমিটির পরামর্শের সম্পূর্ণ উল্টো। এর ফলে সংক্রমণ অনেকটা বেড়ে যাবে বলে তার আশঙ্কা ।
করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে সরকার এ বছর ৫ এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ দিয়ে আসছে। কিন্তু তারপরও করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ১ জুলাই থেকে সারা দেশে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়। প্রথমে এক সপ্তাহের জন্য বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হলেও পরে তা ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
